হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালযয়ে (হাবিপ্রবি) ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে দু’হলের ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষে শিক্ষকসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিবাগত রাতে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো: আবু হাসান স্বাক্ষরিত পত্রে শুক্রবার বিকেল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদেরকে (বিদেশি শিক্ষার্থী ব্যতিত) হল ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।
সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে শহীদ আবরার ফাহাদ হল ও নূর হোসেন হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এ সময় শিক্ষকরা সংঘর্ষ থামানোর জন্য ঘটনাস্থলে গেলে শিক্ষকরাও লাঞ্ছিত ও আহত হন। আহত শিক্ষকের নাম অধ্যাপক মবিনুল ইসলাম। ছাত্রদের মধ্যে আহত দু’জন হচ্ছেন হাবিপ্রবি শাখার ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান কবির ও অর্ণব। আবরার ফাহাদ হল থেকে আসা হামলাকারীরা নূর হোসেন হলের বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করে। হলের সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করে। এ সময় হাবিপ্রবি-র দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি রাফিউল হুদা কর্তব্য পালনের সময় তার মোবাইল ফোনটিও ছিনিয়ে নেয়া হয়।
এসব ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিপক্ষরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে। ফলে দু’পাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
জানা গেছে, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল মাঠের দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটির জেরে। একপর্যায়ে দুই হলের শিক্ষার্থীরা টিএসসির সামনে জড়ো হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. এস এম এমদাদুল হাসান বলেন, ‘দুই পক্ষের সংঘর্ষ আপাতত থামানো হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে চেষ্টা চলছে।’
ছাত্রদলের নেতারা অভিযোগ করেন এ ঘটনায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা জড়িত।
ছাত্র সংঘর্ষ ঘটনার প্রতিবাদে হাবিপ্রবি শাখার শিবির সভাপতি রেজওয়ানুল হক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি ক্যাম্পাসকে প্রতিনিয়ত চরম সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ঠুনকো বিষয়কে কেন্দ্র করে বারবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে, ক্যাম্পাসে প্রতিনিয়ত চলছে অস্ত্রের ঝনঝনানি, রক্তাক্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। প্রশাসন অতিদ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে, ক্যাম্পাসে এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম কখনোই বন্ধ হবে না। অবিলম্বে ক্যাম্পাসে শান্তি ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা দাবি করছি।’



