সীমাবদ্ধতায় জর্জরিত বুটেক্স লাইব্রেরি, প্রশ্নে সেবা মান

সময়সূচির জটিলতা, তীব্র আসন সংকট, পুরোনো সংস্করণ ও বৈচিত্র্যহীন বই এবং আধুনিক অটোমেশন ব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শেফাক মাহমুদ, বুটেক্স

Location :

Dhaka
বুটেক্স লাইব্রেরি
বুটেক্স লাইব্রেরি |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের প্রধান জ্ঞানকেন্দ্র হলেও নানা সীমাবদ্ধতায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।

সময়সূচির জটিলতা, তীব্র আসন সংকট, পুরোনো সংস্করণ ও বৈচিত্র্যহীন বই এবং আধুনিক অটোমেশন ব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

দেশের অন্যান্য শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু হলেও বুটেক্সে এখনো আগের পদ্ধতিতে কার্যক্রম চলায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, লাইব্রেরি সকাল ৯টায় খুললেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো ৮টার আগেই ক্যাম্পাসে পৌঁছে যায়। ফলে দূর থেকে আসা শিক্ষার্থীদের দিনের প্রথম এক ঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। ক্লাস না থাকলেও এ সময় লাইব্রেরিতে বসে পড়ার সুযোগ পান না তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগে লাইব্রেরি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও জ্বালানি সংকটকালীন সরকারি সিদ্ধান্তে বর্তমানে সময় কমিয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো পূর্বের সময়সূচিতে, এমনকি দুই শিফটে রাত পর্যন্ত লাইব্রেরি সেবা চালু রয়েছে। সে তুলনায় বুটেক্স লাইব্রেরির বর্তমান সময়সূচি শিক্ষার্থীদের জন্য সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারদিন বিন আমান বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সময়টা আমরা কাজে লাগাতে পারছি না। পরীক্ষার সময় এই এক ঘণ্টা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য লাইব্রেরি সকাল ৮টা থেকে খোলা রাখা জরুরি।’

লাইব্রেরির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। পড়ার স্থান ও কম্পিউটার সেকশন একই কক্ষে থাকায় প্রায়ই শব্দ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইকরামুল হাসান বলেন, ‘লাইব্রেরি সম্পূর্ণ শান্ত পরিবেশ হওয়া উচিত। কম্পিউটার সেকশনটি আলাদা কক্ষে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীর তুলনায় লাইব্রেরির পরিধিও ছোট।’

অন্যদিকে ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ সিয়াম বলেন, ‘লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় ও হালনাগাদ বইয়ের ঘাটতি রয়েছে। তার অভিযোগ, অনেক বই পুরোনো ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং অ্যাকাডেমিক বইয়ের বাইরে সাহিত্যিক বইয়ের সংগ্রহও সীমিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চুয়েট ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল বুক সার্চ ও ই-রিসোর্স সুবিধা থাকলেও বুটেক্স এখনো সেই সুবিধা থেকে পিছিয়ে। অটোমেশন না থাকায় শিক্ষার্থীদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে সময় ব্যয় করে বই খুঁজতে হচ্ছে।’

লাইব্রেরি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সেখানে প্রায় ২৩ হাজার বই রয়েছে। বিষয়ভিত্তিকভাবে সাজানো এই সংগ্রহে অ্যাকাডেমিক বইয়ের পাশাপাশি কিছু সাহিত্যবিষয়ক বইও রয়েছে। প্রতিবছর চাহিদা ও বিভাগীয় তালিকার ভিত্তিতে নতুন বই সংযোজন এবং পুরোনো বই মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে মাত্র তিনজন কর্মী দিয়ে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় সেবা সম্প্রসারণে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলে জানান লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ।

বারবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও স্থায়ী লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ না হওয়ায় বর্তমানে লাইব্রেরির দায়িত্ব অতিরিক্ত হিসেবে পালন করছেন ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এস এম ফারহানা ইকবাল।

তিনি নিজের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘স্থায়ী লাইব্রেরিয়ান না থাকায় আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এটি পরিচালনা করছি। অটোমেশনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। একজন শিক্ষক হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাড়তি চাপও সামলাতে হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে বই পড়ার অনীহা রয়েছে, যা নতুন বইয়ের চাহিদা নির্ধারণেও প্রভাব ফেলে।’

চাহিদা থাকলে নতুন বই সংগ্রহ করা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো: শরীফুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুবিধা প্রশাসনের অগ্রাধিকার। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলার বিষয়ে আমরা ইতিবাচক। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরি সংশ্লিষ্টদের নিকট সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন দিতে হবে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সিন্ডিকেট মিটিং এ সিদ্ধান্ত নেব।’

স্থায়ী লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ এবং অটোমেশন সংক্রান্ত সমস্যার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ইউজিসির অনুমোদন সাপেক্ষে স্থায়ী লাইব্রেরিয়ান নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অটোমেশন প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে লাইব্রেরিতে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান সহজ হবে।’