উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ অ্যাসাইনমেন্ট। তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও লেখালেখিতে দিন-রাত পরিশ্রম করে শিক্ষার্থীরা এসব অ্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত করেন। কিন্তু মূল্যায়ন শেষে সেই খাতার অনেকগুলোরই শেষ ঠিকানা হচ্ছে ভাঙারির দোকান, যেখানে সেগুলো কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিভিন্ন বিভাগে এমন চিত্র দেখা গেছে। শিক্ষার্থীরা জানান, একটি সেমিস্টারে একাধিক ৪০ থেকে ৫০ পৃষ্ঠার অ্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত করতে তাদের সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু মূল্যায়নের পর খাতাগুলো ফেরত না দিয়ে সংরক্ষণের অভাবে বিক্রি করে দেয়া হয়।
বিনোদপুর এলাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রতিবছরই অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষার খাতা ও অন্য কাগজপত্র কেজি দরে বিক্রি করা হয়। পরে সেগুলো পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়।’
ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘একটি অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু যথাযথ ফিডব্যাক না দিয়ে খাতা বিক্রি করে দেয়া হতাশাজনক। মূল্যায়নের পর খাতাগুলো শিক্ষার্থীদের ফেরত দিলে নিজেদের ভুল সংশোধনের সুযোগ পাওয়া যেত।’
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ গালিব বলেন, ‘মানসম্মত অ্যাসাইনমেন্টগুলো বিভাগীয় সেমিনার লাইব্রেরিতে সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতো এবং শিক্ষার্থীদের পরিশ্রমেরও মূল্যায়ন হতো।’
নৃবিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ড. মো: মোস্তফা কামাল আকন্দ এ বিষয়ে বলেন, ‘অ্যাসাইনমেন্টের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী দক্ষতা বৃদ্ধি করা। মূল্যায়নের পর খাতা বিক্রি না করে শিক্ষার্থীদের ফেরত দেয়া বা সংরক্ষণ করা উচিত। ভালো অ্যাসাইনমেন্ট অন্যদের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে।’
প্রো-ভিসি (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নের পর শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় ফিডব্যাক দেয়া এবং খাতা সংরক্ষণ বা শিক্ষার্থীদের কাছে ফেরত দেয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত। পাশাপাশি মানসম্মত অ্যাসাইনমেন্ট বিভাগীয় লাইব্রেরিতে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।’
ভিসি অধ্যাপক ড. মো: ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘অ্যাসাইনমেন্ট শিক্ষার্থীদের শেখা ও মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোথাও মূল্যায়নের পর খাতা বিক্রির ঘটনা ঘটে থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
শিক্ষার্থীদের দাবি, কাগজভিত্তিক অ্যাসাইনমেন্টের পরিবর্তে ধাপে ধাপে ডিজিটাল সাবমিশন চালু, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অ্যাসাইনমেন্ট সংরক্ষণ, ফিডব্যাকসহ খাতা ফেরত দেয়া এবং নির্বাচিত মানসম্মত অ্যাসাইনমেন্ট বিভাগীয় আর্কাইভে রাখার ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীদের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে।



