রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকার কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. দিপু সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা, ষড়যন্ত্র এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বুদ্ধিজীবী নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবী পরিষদ। এক যৌথ বিবৃতিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ এই উদ্বেগ জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, শিক্ষকেরা একটি জাতির মেরুদণ্ড। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, বর্তমান সময়ে শিক্ষা খাত এবং শিক্ষক সমাজ নানামুখী সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট মহল অধ্যাপক ড. দিপু সিদ্দিকীর মতো একজন সৎ, নম্র ও প্রাজ্ঞ শিক্ষাবিদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোংরা প্রোপাগান্ডা ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে, যা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেয়া যায় না।
এর আগে এক বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. সুকোমল বড়ুয়া এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ড. দিপু সিদ্দিকী দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে রয়্যাল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করে আসছেন। তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব সততা ও দক্ষতার সাথে পালন করেছেন এবং তাঁর কর্তব্যপরায়ণতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচ্চ প্রশংসাও কুড়িয়েছেন। একজন বিশিষ্ট কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক হিসেবেও তিনি যুবসমাজের নৈতিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও শান্তির পক্ষে নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন।

পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তনের আলোচনার অজুহাতে ক্যাম্পাসের গেটে তালা ঝুলিয়ে ভিসি, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও ডিনসহ সিনিয়র শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করা এবং লাঞ্ছিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের মানহানিকর বক্তব্য ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে, তা চরম উদ্বেগজনক।
নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ জানান, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রশাসনিক কমিটির মাধ্যমে তা তদন্তের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে 'মব কালচার' বা উগ্র আচরণের মাধ্যমে শিক্ষকদের হেনস্তা করা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরিবেশ বিনষ্ট করা আইনের চরম লঙ্ঘন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের নৈরাজ্য ও মব ভায়োলেন্স কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।"
বিবৃতিতে বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবী পরিষদের নেতৃবৃন্দ সরকারকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানান। একই সাথে অধ্যাপক ড. দীপু সিদ্দিকীসহ সকল শিক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, বর্তমান প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।



