ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

গত বছরের ১৭ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল-সংলগ্ন পুকুর থেকে শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ভিসেরা রিপোর্টে (ফরেনসিক রাসায়নিক বিশ্লেষণ প্রতিবেদন) তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন
ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন |নয়া দিগন্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তিন দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দীন মিঝি, অধ্যাপক ড. খান মোহাম্মদ ইলিয়াস, নিহত সাজিদ আব্দুল্লাহর বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ, বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শাখা ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, তালাবায়ে আরাবিয়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী ও সাজিদের সহপাঠীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এক বছর পার হলেও সাজিদ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি, কাউকে গ্রেফতারও করা হয়নি। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের চরম উদাসীনতা আমরা দেখেছি। প্রশাসন আগে সাজিদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। আমাদের শুরু থেকেই দাবি ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাজিদ আব্দুল্লাহর নামে একটি স্থাপনা নির্মাণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীরা তাকে জানতে ও স্মরণ করতে পারে।

তারা বলেন, সাজিদ হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। একইসাথে তার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নামকরণ এবং পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

এদিকে মানববন্ধনের দাবিগুলোর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে সাজিদ আব্দুল্লাহর বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ বলেন, এক বছর পার হয়ে গেলেও বিচার হয়নি। যাকে হারিয়েছি, তাকে তো আর ফিরে পাব না। কিন্তু বিচারও কি পাব না? ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিক্ষার্থী এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার না হয়, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। আমি এ দাবিগুলো আদায়ে সব শিক্ষার্থীর প্রতি সোচ্চার থাকার আহ্বান জানাই।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল-সংলগ্ন পুকুর থেকে শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ভিসেরা রিপোর্টে (ফরেনসিক রাসায়নিক বিশ্লেষণ প্রতিবেদন) তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার এক বছর পার হলেও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। এ ঘটনার দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের শাস্তি ও ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন।