জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা : ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের ১৪ দফা সিদ্ধান্ত

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে ১৪ দফা সিদ্ধান্ত তুলে ধরছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর
জাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে ১৪ দফা সিদ্ধান্ত তুলে ধরছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর |নয়া দিগন্ত

সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার ও অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের লক্ষ্যে ১৪ দফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১৪ দফা সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম। এ সময় তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী ব্যক্তিকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যাপারে প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।

প্রক্টর জানান, গত ১২ মে রাতে ক্যাম্পাসে এক নারী শিক্ষার্থী আবাসিক হলে ফেরার পথে বহিরাগত এক দুষ্কৃতিকারীর হামলার শিকার হন। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ মে বিকেল ৩টায় ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি প্রশাসনিক সভায় ১৪টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

প্রশাসনের ১৪ দফা সিদ্ধান্তগুলো হলো— কুইক রেসপন্স টিম গঠন, নিরাপত্তা হটলাইন চালু, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক, বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণ শ্রমিকদের আইডি কার্ড, দোকান কর্মচারী ও নির্মাণ প্রকল্পের শ্রমিকদের পরিচয়পত্র বহন, ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদ, নিরাপত্তা প্রহরী ও আনসার সদস্য বৃদ্ধি, গেইট, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও আলোর ব্যবস্থা জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি স্থাপন, আলবেরুনী হলের টিনশেড ভবন অপসারণ, সাইবার বুলিং ও র‌্যাগিং প্রতিরোধ কমিটি গঠন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রক্টর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন, জরুরি নিরাপত্তা হটলাইন চালু, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রবেশপথে বহিরাগতদের পরিচয়পত্র প্রদর্শন ও লগবুকে তথ্য সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে চলাচলকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বৈধ পাস চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসে নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মকর্তা ও দোকানের কর্মচারীদের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পরিচয়পত্রের কপি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও এস্টেট শাখায় জমা দিতে হবে। এসব তথ্য নিয়ে আইসিটি সেলের মাধ্যমে একটি ডাটাবেজও তৈরি করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের সকল ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসাথে প্রতিটি প্রবেশপথে নিরাপত্তা প্রহরীর সংখ্যা বাড়ানো, শূন্য পদে নতুন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ এবং অতিরিক্ত ১০০ জন আনসার সদস্য মোতায়েনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) অনুমোদনের আবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশ গেইট ও সীমানা প্রাচীরের ত্রুটি দ্রুত মেরামত এবং অননুমোদিত প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।