দুমকি (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ভিসি ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে চলা অবস্থান কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকায় উপজেলা মহিলা দল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের পাঁচ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অপরদিকে, হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বহিষ্কৃতরা হলেন দুমকি উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ বশির উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান ফারুক ও সুলতান শওকত, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুসা ফরাজী এবং জেলা মহিলা দলের সদস্য হেলেনা খানম।
সোমবার বিকেলে দুমকি উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ বশির উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান ফারুক ও সুলতান শওকত এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুসা ফরাজীকে পৃথক চিঠি ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
অপরদিকে মঙ্গলবার সকালে পটুয়াখালী জেলা মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আক্তার সিমা ও সাধারণ সম্পাদক ফারজানা ইয়াসমিন রুমা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে হেলেনা খানমকে বহিষ্কার করা হয়।
অপরদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সন্ত্রাস, হানাহানি ও দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বশির উদ্দিনকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভিসি ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন শুরু করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা প্রো-ভিসি অধ্যাপক হেমায়েত জাহানের পক্ষে স্লোগান দেন। কর্মসূচির একপর্যায়ে দুমকি উপজেলা যুবদল নেতা রিপন শরীফের নেতৃত্বে শতাধিক বহিরাগত ক্যাম্পাসে ঢুকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে অধ্যাপক এ বি এম সাইফুল ইসলাম ও পরিচালক (অর্থ) জসিম উদ্দিনসহ ১০ জন আহত হন।
এদিকে, আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই ওই হামলা ও শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা লাগাতার কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন। সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।
এ প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রফেসর ড. এ বি এম সাইফুল ইসলাম, প্রফেসর ড. মো: আতিকুর রহমান, খামার তত্ত্বাবধায়ক আবদুল্লাহ আল-নোমান, সহকারী রেজিস্ট্রার মো: শহিদুল ইসলাম মৃধা, মোসাম্মৎ ডলি বেগম, সেকশন অফিসার মোসাম্মৎ নাসরিন বেগমসহ অন্যরা।
শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ লাগাতার কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস-পরীক্ষাসহ অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ভিসির কার্যালয়ে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া ভিসি প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে আছেন বলে জানা গেছে। তাই তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।



