সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সরকার শিশু ও নারীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের নিজ অফিস কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসটেনসেনের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এদিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক্সপার্ট মিশনের সদস্য ম্যাথুউ ডেভিড কার্টারের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সাথেও বৈঠক করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রীর অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে ডা. জাহিদ সরকারের সমাজকল্যাণ, নারী ও শিশুর উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং মানবিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাতে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নারী ও শিশুদের ক্ষমতায়ন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সমাজের অসহায়-দুস্থ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
তিনি ইইউ’র সাথে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ, বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তা সৃজন, শিশু সুরক্ষা প্রকল্প এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসটেনসেনের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডা. জাহিদ হোসেন বাংলাদেশের সামাজিক কল্যাণ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, সরকার শিশু ও নারীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব।
মন্ত্রী আরো বলেন, এবার বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখে বাঙালির কৃষ্টি কালচার উদযাপনে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কৃষ্টি কালচারকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলেছিল।
আগামী ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বগুড়া জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ পত্র প্রদান করেন তিনি।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক্সপার্ট মিশনের সদস্য ম্যাথিউ ডেভিড কার্টারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সাথে সাক্ষাতে মন্ত্রী বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ঐতিহ্য তুলে ধরে সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু উন্নয়ন খাতে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে মিলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে কাজ করছে।
ডা. জাহিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের ২১ দিনের মাথায় জনগণের কাছে নির্বাচনের ওয়াদা প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ১০ মার্চ ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বপ্রথম পাইলটিং পর্যায়ে দেশের অস্বচ্ছল ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে যুক্ত। কৃষকদের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে ‘কৃষি কার্ড’ দেয়া হয়েছে। জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলোকে আরো গতিশীল করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নারী ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং দুস্থ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করি। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে এ ধরনের সাক্ষাৎ আমাদের প্রচেষ্টাকে আরো শক্তিশালী করবে।
প্রতিনিধিরা মন্ত্রীর সাথে আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগে তাদের দেশের সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
পরে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত, ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিবৃন্দ ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা, শিশু নিরাপত্তা ও নারী অধিকার সংরক্ষণ, চলমান সকল উন্নয়ন কার্যক্রমে সার্বিক আর্থিক সহায়তা প্রদানে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



