রাজধানীর উত্তরায় চেতনানাশক খাইয়ে সিরিজ চুরির রহস্য উদঘাটনসহ ঘটনার সাথে জড়িত মূল আসামি বিলকিস বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় মালিককে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে হত্যা করে নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি করে পালিয়ে যায় গৃহকর্মী। এ ঘটনার সাথে পূর্ববর্তী আরেক ঘটনার আচরণগত ও কৌশলগত মিল পাওয়া যায়।
গত বছরের ১৩ অক্টোবর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে বাসার মালিক জনৈক মো: ইবনুল আলম পলাশের বাসার কেয়ারটেকার মো: জাকিরের সাথে এক অজ্ঞাতনামা নারী গৃহকর্মীর কাজের জন্য দেখা করে। বাসার মালিক ও তার স্ত্রী তাকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেন এবং এনআইডি নিয়ে আসতে বলেন। পরদিন তিনি কাজে যোগ দিলেও এনআইডি আনেননি। বাসার মালিক ও তার স্ত্রী কর্মস্থলে গেলে বাসার মালিকের বৃদ্ধা মা রওশনারা বেগমকে নাস্তার সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করে তার পরিহিত স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ টাকা চুরি করে পালিয়ে যায় ওই গৃহকর্মী।
এ ঘটনায় ইবনুল আলম অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা করেন। থানা পুলিশ মামলাটি কয়েক মাস তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িত আসামিকে শনাক্ত করতে না পারায় থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (সত্য) দাখিল করেন। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে এসআই (নিরস্ত্র) ফিরোজ আহমেদ মুন্সী মামলাটি তদন্ত করছেন।
পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) তদন্ত দল কার্যক্রম চালাতে থাকে। এদিকে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় গৃহকর্মী কর্তৃক মালিককে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে হত্যা করে নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার আরেক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সাথে পূর্ববর্তী ঘটনার আচরণগত ও কৌশলগত মিল পায়।
পিবিআই’র তদন্ত কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণপূর্বক ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পূর্বের হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি বিলকিস বেগমকে (৪০) শনাক্ত করে শ্যেন অ্যারেস্ট মূলে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করলে গত ১৯ এপ্রিল আদালত চার দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করে। ২২ এপ্রিল তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে স্বীকার করেন।
তার দেয়া তথ্যমতে পিবিআই’র অভিযানিক দল গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত শহরবানু নামে এক নারীকে পায় এবং জুয়েলারি দোকান খুঁজে পেয়ে চুরির স্বর্ণ বিক্রয়ের সত্যতা পায়।
আসামি বিলকিস বেগম আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং শহরবানু ও জুয়েলারী ব্যবসায়ী গোবিন্দ ঘোষ ও রুপা সরকার সাক্ষী হিসেবে আদালতে বিস্তারিত জবানবন্দি দেন।
পিবিআই তদন্তে এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনায় জানা যায় যে, আসামি বিলকিস কৌশলে পরিচয় গোপন করে ভিকটিমের ছেলের বাসায় বুয়ার চাকরি নেন। বাসার মালিক ও তার স্ত্রীর অনুপস্থিতে নাস্তার সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে ভিকটিম রওশনারা বেগমকে খাইয়ে অচেতন করে ভিকটিমের পরিহিত স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ টাকা চুরি করে গাজীপুরে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে পূর্বপরিচিত শহরবানুর মাধ্যমে বিক্রয় করেন।
এ বিষয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) ইউনিট ইনচার্জ ডিআইজি মো: এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ‘পিবিআই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত প্রতিষ্ঠান। অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে আমরা বদ্ধপরিকর।’



