সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের দাবি

টিটন হত্যাকাণ্ড ভিন্ন খাতে নিতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছাড়াচ্ছে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলাল

শনিবার দুপুরে সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন মামলার বাদি ও নিহতের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিহত খন্দকার নাইম আহমেদ টিটনের পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
নিহত খন্দকার নাইম আহমেদ টিটনের পরিবারের সংবাদ সম্মেলন |নয়া দিগন্ত

শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলাল নিজেকে বাঁচাতে খন্দকার নাইম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ড ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে পিচ্চি হেলাল রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও নিউমার্কেট এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং আসন্ন কোরবানির পশুর হাটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিকল্পিতভাবে টিটনকে হত্যা করেছে।

শনিবার (২ মে) দুপুরে সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন মামলার বাদি ও নিহতের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন।

রিপন বলেন, ‘গত ২৮ এপ্রিল রাতে আমার ছোট ভাই টিটনকে হত্যার পর প্রধান আসামি পিচ্চি হেলাল একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে দিয়ে নানা ধরনের মিথ্যাচার করছে। সে আমাদের পারিবারিক কলহের যে দাবি করেছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। এআই দিয়ে তৈরি করা ওই অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে মূলত তদন্ত কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করতে অপকৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের ১১ ভাই-বোনের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। আমার বোন ও ভগ্নিপতি সানজিদুল হাসান ইমনের সাথে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। ইমন একজন উচ্চশিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। মামলার প্রধান আসামি পিচ্চি হেলাল নিজের অপরাধ ঢাকতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন।’

অডিও রেকর্ডে ফোন ফরেনসিক করার চ্যালেঞ্জের জবাবে নিহতের বড় ভাই বলেন, ‘আমি আমার ফোন ফরেনসিকে দিতে প্রস্তুত। তবে দাবি জানাচ্ছি, পিচ্চি হেলালের ব্যবহৃত সবকটি মোবাইল ফোন জব্দ করে ফরেনসিকে পাঠানো হোক। তাহলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। ভয়ঙ্কর এই খুনি ও চাঁদাবাজ কখনো নিজের অপরাধ স্বীকার করে না।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, পিচ্চি হেলাল একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুরের সাবেক কমিশনার রাজু হত্যাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের দেড় মাস আগে টিটন তার ভাইকে জানিয়েছিলেন যে, হেলাল তাকে হত্যার নীলনকশা করছে। এছাড়া জেলখানায় থাকাকালীনও টিটনের সাথে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল।

নিহত টিটনের শোকাহত পরিবার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং পিচ্চি হেলাল ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, পিচ্চি হেলালের দাপট ও অপপ্রচারের কারণে বিচার প্রক্রিয়া যেন প্রভাবিত না হয়।

কোরবানির পশুর হাটের ইজারা টিটন নিয়েছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটা মানুষ কারাগারে ছিলেন। এরপর বের হন। তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে কিভাবে কাগজপত্র প্রস্তুত করে ইজারা নেবেন? হয়তো অন্যদের লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন। তবে কী ঘটেছিল আমি সঠিক জানি না।’

কারাগার থেকে বেরিয়ে কোথায় থাকতেন টিটন এমন প্রশ্ন করা হলে টিটনের ভাই বলেন, ‘ধানমন্ডি ছিলেন। এর মধ্যে যশোর গ্রামের বাড়িতে মায়ের সাথে দেখাও করেছিল।’

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে নিউ মার্কেটের পাশে খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যা করে মাস্ক পরিহিত দুজন মোটরসাইকেল আরোহী। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ২০০১ সালে পুলিশ যে ২৩ ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীর’ তালিকা প্রকাশ করে সেখানে টিটনের নামও ছিল। তার ভগ্নিপতি আরেক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ সানজিদুল ইসলাম ইমন। তারা দুজনই মোহাম্মদপুরের ‘সন্ত্রাসী চক্র’ হারিছ-জোসেফ গ্রুপে যুক্ত ছিলেন।