১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো: শাহাবুদ্দিন বলেছেন, ‘কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকতে আইন ও মানবাধিকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছে। বিনাভোটে, মধ্যরাতের ভোটে ও ডামি নির্বাচন দিয়ে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজেদের করে নিয়েছিল। তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শুধু গদি নয়, তাদেরকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এদেশে আবারো যদি কেউ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে। তাদের অতীতের ফ্যাসিস্টদের পরিণতির ইতিহাস স্মরণে রাখা উচিত। দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা দেশে আর নতুন কোন ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণ হতে দেবে না।’
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়া শহীদ খোকন পার্কে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণভোটের রায় প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বগুড়া শহর জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে ও শহর জামায়াতের সহকারী সেক্রটারি আল-আমিনের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এম এস এ মাহমুদ, বগুড়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম সরকার, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মানছুরুর রহমান, শহর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক রফিকুল আলম, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল বাছেদ, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য নুর মোহাম্মাদ আবু তাহের, জাতীয় ছাত্রশক্তি বগুড়া জেলা আহ্বায়ক শাহরিয়ার জুহিন, শহর কর্মপরিষদ সদস্য রিয়াজ উদ্দিন, আজগর আলী, আব্দুল হামিদ বেগ, শাহিন মিয়া, হেদাইতুল ইসলাম, আব্দুস সালাম তুহিন, নূরুল ইসলাম আকন্দ, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য রেজাউল করিম বাচ্চু, মাওলানা আব্দুল মজিদ, মাওলানা আব্দুল মমিন, শহর শ্রমিক ফেডারেশনের সেক্রেটারী মাস্টার আনোয়ারুল ইসলাম, গাবতলি থানা আমির মাওলানা ইউনুস আলী, কাহালু থানা আমির মাওলানা শাহিদা খান প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ মানবিক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। এ জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার। জনপ্রত্যাশিত এই সংস্কার প্রক্রিয়াটি কেবল সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের মাধ্যমেই তা সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় গিয়ে ফের ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা শুরু করেছে। ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে বিএনপি একদলীয় শাসন ব্যবস্থার পথে হাঁটছে। যা জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। বিএনপি সরকার গায়ের জোরে রাষ্ট্র সংস্কারের পথ রুদ্ধ করছে। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপই আজ জনস্বার্থের পরিপন্থী। তারা সংসদে একের এক গণবিরোধী বিল পাসের মাধ্যমে দেশে ফের ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছে।



