উজিরপুরে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস, নেই তদারকি

পাড়ার দোকানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় ৪০০ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। অভিযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। রশিদ চাইলে অনেক দোকানি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে চান না।

বিএম রবিউল ইসলাম, উজিরপুর (বরিশাল)

Location :

Wazirpur
এলপি গ্যাস সিলিন্ডার
এলপি গ্যাস সিলিন্ডার |নয়া দিগন্ত

বরিশালের উজিরপুরে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপি গ্যাস বিক্রি করছেন খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা। উপজেলার বাজারগুলো ও পাড়া-মহল্লার ছোট দোকানগুলোতে তদারকির অভাব এবং কৃত্রিম সঙ্কটের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছে ১৭২৮ টাকা। তবে উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ও পাড়া-মহল্লার দোকানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ২০০০-২১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কৃত্রিম সঙ্কট দেখিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে। অনেক দোকানে গ্যাস বিক্রির বৈধ অনুমতি না থাকলেও নিয়মিত ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বড় প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালালেও পাড়া-মহল্লার দোকানগুলো নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে।

উপজেলার সাতলা এলাকার বাসিন্দা সোহরাব হোসেন বলেন, পাড়ার দোকানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় ৪০০ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। অভিযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। রশিদ চাইলে অনেক দোকানি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে চান না।

এদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা পাইকারি পর্যায় থেকেই বেশি দামে গ্যাস কিনছেন। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। উপজেলার ধামুরা এলাকার এক দোকানি বলেন, বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বিক্রির দামও বেশি রাখতে হচ্ছে।

এ অবস্থায় দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার ও নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা। তাদের মতে, এ রকম চললে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়বে।

এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আলী সুজা বলেন, অতিরিক্ত দামে এলপি গ্যাস বিক্রির অভিযোগ মৌখিকভাবে পাওয়া গেছে। দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।