আব্দুল মান্নান (শার্শা) যশোর থেকে
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে শুল্ক ফাঁকি ও দুর্নীতির এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, বন্দরের শীর্ষ প্রশাসন ও একাধিক শেড ইনচার্জের প্রত্যক্ষ মদতে ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য নিয়মিত খালাস হচ্ছে।
এর ফলে সরকার হারাচ্ছে বিপুল অংকের রাজস্ব, আর সৎ ব্যবসায়ীরা পড়ছেন মারাত্মক অসম প্রতিযোগিতার মুখে। নিয়ম অনুযায়ী ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশের পর নির্ধারিত শেডে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে কঠোর যাচাই-বাছাই হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই প্রক্রিয়া প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে এসব পণ্য মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই দ্রুত খালাস হয়ে যাচ্ছে যা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সাথে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। আমদানি-রফতানিকারক ব্যবসায়ীদের অভিযোগ বন্দর পরিচালক ও কয়েকজন শেড ইনচার্জের সহযোগিতায় ঘোষণার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পণ্য বন্দরে প্রবেশ করছে এবং বিপুল অঙ্কের শুল্ক ফাঁকি দেয়া হচ্ছে।
এ ধরনের অভিযোগে সহকারী শেড ইনচার্জ ইউসুফ হোসেনকে ২০২৫ সালে জামালপুরের কামালপুর স্থল বন্দরে বদলি করা হলেও তিনি এখনো বেনাপোলে বহাল রয়েছেন। একইভাবে বন্দর পরিচালক শামীম হোসেনের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর বদলির আদেশ জারি হলেও তিনি এখনো দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ঘটনা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ভয়াবহ ভাঙন ও জবাবদিহির অভাবকে স্পষ্ট করে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় অনিয়মের বিষয়টি আরো প্রকট হয়ে উঠেছে। গত ১৪ মার্চ ‘ব্রেকিং পাউডার’ নামে নিম্ন শুল্কের পণ্য ঘোষণা দিয়ে আনা একটি চালানে গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় উচ্চ শুল্কের ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিকস ও ওষুধ, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। এর মাত্র কয়েকদিন আগে, ৯ মার্চ ‘ঘাসের বীজ’ হিসেবে ঘোষিত একটি চালান থেকে উদ্ধার হয় প্রায় দেড় কোটি টাকার নিষিদ্ধ ‘পাটবীজ’।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি সুসংগঠিত দুর্নীতির ধারাবাহিক চিত্র। যা বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো মাঝে মধ্যে কিছু চালান আটক হলেও দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এতে করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হয়েছে দায় মুক্তির সাংস্কৃতি।
শাপলা ট্রেডিং অ্যান্ড করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো: জাহিদ হোসেন, বিজনেস কর্ণার ইন্টারন্যাশনাল স্বত্বাধিকারী মো: শাহানুর রহমান কাজল, মেসার্স এসটি করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো: ইউনুস আলী, আমদানি ও রফতানিকারক সমিতির সভাপতি মো: মতিয়ার রহমান এক সাক্ষাৎকারে জানান মিথ্যা ঘোষণা ও ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সেড ইনচার্জের কোনো দায় নেই। আমদানি ও রফতানিকারক ব্যবসায়ীরা যেসব পণ্য আমদানি করবে তা প্রমাণ করার দায়িত্ব তাদের। ইতোপূর্বে এ ধরনের কয়েকটি পণ্যের চালান আটক হয়েছে।



