জেল খাটার অভিজ্ঞতা নিতে শিশু হোসাইনকে হত্যা করে ৬ কিশোর

ঘটনার দিন সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ‘খুন করলে জেলে যেতে হয়‘ আর সেই অভিজ্ঞতা নেয়ার ইচ্ছা থেকেই তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া হোসাইনকে টার্গেট করে তারা।

Location :

Narayanganj
হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিশোররা
হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিশোররা |নয়া দিগন্ত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ও ফতুল্লা সংবাদদাতা

সিনেমার থ্রিলার কাহিনিকেও হার মানিয়েছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ব্যাংক কলোনি এলাকার শিশু হোসাইন হত্যাকাণ্ড। শিহরণ জাগানো এ ঘটনায় উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর এক বাস্তবতা। অপরাধ জগতের জীবন্ত স্বাদ পেতেই ছয় কিশোর মিলে পরিকল্পিতভাবে ঘটায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ড।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো: মিজানুর রহমান মুন্সি এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেন।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছয় কিশোর হলো— সাইফুল, তানভীর, ইউনুস, রাহাত, ইয়াসিন ও ওমর।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ফতুল্লায় ১১ বছর বয়সী শিশু হোসাইনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তারই সমবয়সী কিশোর বন্ধুদের একটি দল। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে উঠে এসেছে অবিশ্বাস্য এক কারণ। জেল খাটার অভিজ্ঞতা কেমন, সেই কৌতূহল থেকেই তারা পরিকল্পিতভাবে এই নৃশংস অপরাধ সঙ্ঘটিত করে।

নিহত হোসাইন তার বাবার সাথে শহরে ফুল বিক্রি করত। গত ১৮ এপ্রিল সকাল থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরে ২৩ এপ্রিল বিকেলে দাপা ইদ্রাকপুর ব্যাংক কলোনি এলাকার মিঠু মিয়ার পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। পরে জানা যায়, ফতুল্লা রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়মিত আড্ডা দেয়া ও মাদক সেবনকারী কয়েকজন কিশোর তাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করে।

পুলিশ সুপার আরো জানান, ঘটনার দিন সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ‘খুন করলে জেলে যেতে হয়‘ আর সেই অভিজ্ঞতা নেয়ার ইচ্ছা থেকেই তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া হোসাইনকে টার্গেট করে তারা। গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে হোসাইনকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল তাদের আরো তিন বন্ধু রাহাত, ইয়াসিন ও ওমর। পরে সবাই মিলে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

এদিকে হোসাইনের লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রথমে ইয়াসিনকে গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে আরো পাঁচ কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজন এজাহারভুক্ত এবং তদন্তে আরো দু’জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে মামলার এজাহারনামীয় ১ নাম্বার আসামি ইয়াসিন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো একজন পলাতক রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।