ময়মনসিংহ বোর্ডে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৪৫ মিনিট

৫৯ জন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীর জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ সুবিধা, যা তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকে আরো সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলবে।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড
ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড |নয়া দিগন্ত

পরীক্ষা শুধু মেধার লড়াই নয়, এটি সমান সুযোগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই এ বছর ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৪৫ মিনিট বাড়িয়ে মানবিক ও সহানুভূতিশীল উদ্যোগ নিয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সারাদেশের মতো ময়মনসিংহেও একযোগে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবারে বোর্ডের অধীনে অংশ নিচ্ছে মোট এক লাখ সাত হাজার ৬৫১ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৫৯ জন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীর জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ সুবিধা, যা তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকে আরো সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই শিক্ষার্থীরা প্রতিটি বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত ৪৫ মিনিট সময় পাচ্ছেন। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় তারা সাধারণ পরীক্ষার্থীদের তুলনায় ১৫ মিনিট বেশি সময় নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন। অনেকের জন্য এটি শুধু বাড়তি সময় নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের একটি বড় উৎস।

এছাড়াও, যারা শারীরিকভাবে লিখতে অক্ষম, তাদের জন্য রাখা হয়েছে শ্রুতিলেখক (স্ক্রাইব) ব্যবহারের সুযোগ। এতে করে তারা নিজের চিন্তা ও জ্ঞান যথাযথভাবে প্রকাশ করতে পারছেন, যা আগে অনেক সময়ই সীমাবদ্ধ হয়ে যেত শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে।

বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সৈয়দ আখতারুজ্জামান ফরিদ জানান, সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের সুবিধার বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।

এদিকে, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ময়মনসিংহ বোর্ডের অধীনে ১৮৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার প্রতিটিই সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

বোর্ড সচিব শফিউদ্দিন শেখ জানান, মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৫৫ হাজার ৪৬৬ জন এবং ছাত্রী ৫২ হাজার ১৮৫ জন। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজন করা হচ্ছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিফলন। যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর সম্ভাবনাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য এমন সহায়ক ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে, শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য আরো কমবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।