পদ্মায় ডুবে যাওয়া সেই বাসের সব কাগজই ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে পদ্মায় ডুবে যাওয়া ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাসটির ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন ও রুট পারমিট- সবকটির মেয়াদই শেষ হয়ে গিয়েছিল। ঘটনার পর বাসটির নিবন্ধন ও চালকের অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং তদন্তে ঘাটের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার নানা অনিয়ম উঠে এসেছে।

এম মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী
নয়া দিগন্ত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহনের বাসটির ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন ও রুট পারমিট- সবগুলোরই মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) রাজবাড়ী সার্কেলের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ অহিদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, বাসটি গত ৫ জুন দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। এ ঘটনায় বাসের চালক নদীতে ডুবে ও তার সহকারী ফেরির পন্টুনে পরে আহত হন। দুর্ঘটনার পর বিআরটিএ রাজবাড়ী সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক লিটন কুমার দত্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে বিআরটিএর তথ্যভাণ্ডার (ডাটাবেজ) পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাসটির ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস সনদ ও রুট পারমিট- সবকটিরই মেয়াদ অনেক আগেই পার হয়ে গেছে।

এই ঘটনার পর বাসটির নিবন্ধন এবং চালকের প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে বাসডুবির ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির প্রধান ও রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে ঘাট এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘাটতির বিষয় উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনা এড়াতে ও নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা। পন্টুন ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট মেরিন বিভাগের যে কয়টি ত্রুটি রয়েছে তা দ্রুত সংশোধন করা। বাসটির রুট পারমিট-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া।

সড়কে ও ঘাটে এই ধরনের ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে পাংশা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ আল মামুন বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের তদবির ও প্রভাবের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক সময় বাসের রুট পারমিট ও ফিটনেস সনদ যথাযথভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না।’

তার মতে, নিয়মিত ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অনিয়ম এবং দুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।