নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরিবারপ্রধানের বাবা ও দুই বোনসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে ও দুপুরে তাদের আটক করা হয়। তারা হলেন- হত্যার শিকার হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা, হালিমা ও ভাগ্নে সবুজ রানা।
এর আগে সোমবার রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ চারজনের লাশ উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন, হাবিবুর রহমান (৩৬), স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), তাদের মাদরাসাপড়ুয়া ছেলে জাকির হোসেন (১৪) ও শিশুকন্যা সাদিয়া ইসলাম মৌ (৪)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে হত্যার শিকার ব্যক্তিরা নিজ ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। রাতে দুর্বৃত্তরা ঘুমন্ত অবস্থায় হাবিবুর রহমানসহ তার স্ত্রীকে গলা কেটে এবং ছেলে ও মেয়েকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। প্রতিবেশী এক বৃদ্ধা সকালে তাদের ঘরের দরজার কাছে রক্ত দেখতে পেয়ে ঘরে প্রবেশ করলে খাটের উপর হাবিবুর রহমানের গলাকাটা লাশ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে। স্ত্রীর পপির লাশ ঘরের বাইরে এবং ছেলে জাকির হোসেন ও মেয়ে সাদিয়ার লাশ পাশের ঘরে দেখতে পান।
পরে নিয়ামতপুর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করে। কিভাবে ও কেন তারা খুন হলো তা জানতে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করেছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জমিজমা সংক্রান্ত জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
এডিশনাল ডিআইজি শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সহকারী পুলিশ সুপার (মান্দা সার্কেল) আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ শাওন, নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইন চার্জ মাহবুবুর রহমান (পিপিএম) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
নিহত পপি সুলতানার মা সাবিনা বেগম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই ওরা (শ্বশুর পরিবার) আমার মেয়েকে নির্যাতন করে। কয়েকদিন আগে আমার মেয়ের ননদ শিরিনা তার স্বামী ভুটি ও তার ছেলের বউ মিলে আমার মেয়েকে মারধর করে। তখন তারা থানায় যায়। থানা তাদের অভিযোগ নিলেও আমার জামাইয়ের কোনো অভিযোগ নেয়নি। থানা থেকে ঘুরে এসে গ্রামের মানুষের কাছে বিচার দেয়। গ্রামের মানুষ তখন আপস মীমাংসা করে দেয়। তারপর কোর্টে মামলা করে। জমি যখন আমার জামাইকে দেয় তখন তার পাঁচ বোনকেও আড়াই বিঘা করে জমি লিখে দেয়। আর আমার জামাইকে বাড়ি ভিটা মিলে ১০ বিঘা জমি দেয়। আমার জামাই তার বাবার একমাত্র ছেলে। আমার জামাইকে ১০ বিঘা জমি দেয়াতেই তাদের মূল সমস্যা। এইটা নিয়েই তাদের হিংসা শুরু হয়। তখন থেকেই তারা এর বংশকে নির্বংশ করে দেয়ার পরিকল্পনা করে। আমার মেয়েকে তারা বহুদিন থেকে নির্যাতন করে। ওরা পাঁচ বোন মিলেই আমার মেয়ে-জামাই ও নাতি-নাতনীকে মেরে ফেলেছে।’
নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান (পিপিএম) বলেন, ‘চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’



