কিশোরগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহফুজ (১৩) এবং মারুফ (১১) নামে এতিম দুই শিশুর আর্তনাদের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভাগ্যক্রমে বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। এরপরই ওই দুই শিশুর পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলো পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে পাকুন্দিয়া উপেজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস শিশুদের বাড়ি গিয়ে নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দিয়ে তাদেরকে সহযোগিতা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: তরিকুল হাসান শাহীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
জানা যায়, পাকুন্দিয়া পৌরসদরের সৈয়দ্গাঁও গ্রামের দিনমুজর মানিক মিয়া পাঁচ বছর আগে মারা যান। সেই থেকে দুই শিশু নানার বাড়ি এগারসিন্দুর ইউনিয়নের খামা গ্রামে বসবাস করত। দুই শিশুর মা অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেলে তাদের কদর কমে যায়। এবং একপর্যায়ে নানার বাড়িতেও তাদের জায়গা হয়নি। ফিরে আসে বাবার ভিটায়, সেখানেও তাদের দেখভাল করার মতো কেউ নেই। চাচারাও তাদের দায়িত্ব নিচ্ছেন না। নিরুপায় ওই দুই শিশু বাজারে ঘুরে ঘুরে ভিক্ষাবৃত্তি করে দিনাতিপাত করতে থাকে।
এ নিয়ে গত ১ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানবিক সহায়তা চেয়ে একাধিক ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে পরদিনই এতিম দুই শিশুর পাশে দাঁড়ান ইউএনও। তাদেরকে নগদ ১০ হাজার টাকাসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তাদের হাতে তুলে দেন। প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় লোকজনদের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
এ ব্যাপারে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস বলন, সরকারের নির্দেশ মোতাবেক উপজেলা প্রশাসন সবসময় এ ধরনের মানবিক কাজ করে থাকে। এতিম দুই শিশুকে প্রাথমিকভাবে নগদ টাকা ও খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে এবং তাদেরকে পরে বাড়ি নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা করা হবে।


