কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে দুই দিনে ছয় শিশুর শরীরে হাম রোগ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে জারামনি নামের এক শিশু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। বাকি পাঁচজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জ্বর, সর্দি-কাশি ও শরীরে ফুসকুড়ি নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকজন শিশুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। পরে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে রিপোর্টে হাম শনাক্ত হয়। আক্রান্ত ছয় শিশুর মধ্যে দুইজনের বয়স সাত মাস। অন্যদের বয়স চার মাস থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে।
আক্রান্তরা হলো উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের বেতাল গ্রামের জহিরুল ইসলামের মেয়ে নানজিবা ইসলাম, মসূয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে মিরাজ, হাসপাতাল কোয়ার্টারের আশরাফুল ইসলামের মেয়ে তানিশা, পাকুন্দিয়া উপজেলার মহিবুল্লাহর মেয়ে আদিবা তাসনীম ও কুলিয়ারচর উপজেলার আমিনুল ইসলামের মেয়ে রাহা।
হাসপাতালে ভর্তি শিশু জারামনির বাবা জসিম বলেন, ‘চার দিন আগে মেয়ের জ্বর হলে হাসপাতালে নিয়ে আসি। পরে পরীক্ষায় হাম ধরা পড়ে। এখন চিকিৎসায় তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।’
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশন ওয়ার্ড, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জনবলের কিছুটা সঙ্কট রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শিশু বিভাগে একটি অস্থায়ী আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: ঈশা খান বলেন, ‘আক্রান্ত শিশুদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে এবং তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সৈয়দ মোহাম্মদ শাহরিয়ার অনিক জানান, সাধারণত নয় মাস বয়স থেকে হামের টিকা দেয়া হয়। তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী রোববার থেকে ছয় মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে।
আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।


