দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি এখন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে বন্ধ হতে পারে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে বড় বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে সর্বশেষ ইউনিটি বন্ধ হয়ে যায়।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩টি ইউনিটিই বন্ধ থাকায় কয়লা খনি হুমকির মুখে পড়েছে। উত্তোলিত কয়লার পুরো ব্যবহার না হওয়ায় বিশাল এলাকা জুড়ে পড়ে আছে কয়লার স্তুপ। বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হওয়া মানে কয়লার স্ট্রিট বেড়ে যাওয়া। কারণ বড়পুকুরিয়ার কয়লার একমাত্র ক্রেতাই বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। এই কয়লা বাইরে বা ইট ভাটার জন্য খোলা বাজারে বিক্রি করার হুকুম নেই বলে খনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, আগে থেকে আরো দুটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ আছে। ওই সময় কয়লা খনিতে কয়লা উত্তোলন না করার পরামর্শ দেয়া হয়।
সর্বশেষ বন্ধ হওয়া ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল ১২৫ মেগাওয়াট। কিন্তু এই ইউনিটেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৬০ থেকে ৭০ মেগাওয়াটের বেশি ছিল না। যা গত বৃহস্পতবার থেকে (১ নম্বর ইউনিট) বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ছিল ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর যান্ত্রিক ত্রুটিতে ২৭৫ মেগাওয়াটের ৩ নম্বর ইউনিটও বন্ধ হয়ে যায়। তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিনাজপুর সহ সারা উত্তরাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিংর মুখে পড়েছে।
এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কলয়া খনি কর্তৃপক্ষ। খনির উৎপাদিত কয়লার একমাত্র ক্রেতা এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ায় মজুত দ্রুত বেড়ে গেছে। বর্তমানে খনিতে দৈনিক গড়ে ২ হাজার ৭০০ টন কয়লা উত্তোলন করা হলেও ব্যবহার না হওয়ায় কোল ইয়ার্ডে মজুদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টনে, যা ধারণ ক্ষমতার অনেক বেশি। খনি থেকে কয়লা উত্তোলন না করার জন্য অনেক আগেই পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো: শাহ আলম বলেন, ‘কয়লা সংরক্ষণের জায়গা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বিকল্প স্থানে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’



