দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সহপাঠীদের সাথে পুকুরে গোসল করতে নেমে আবির চন্দ্র রায় বিপ্লব (১৫) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে পৌর শহরের গোলাম মোস্তফা (জিএম) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আবির উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের গোকুল শেনোড়া গ্রামের ভ্যানচালক বিজন চন্দ্র রায়ের ছেলে। সে জিএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ঘটনার পর থেকেই ফুলবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম পুকুরে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে ব্যর্থ হলে রংপুর থেকে বিশেষায়িত ডুবুরি দলকে খবর দেয়া হয়। এর মধ্যে পৌর এলাকার কাঁটাবাড়ী গ্রামের শিবু সরকার ও স্বপন নামে দুই ব্যক্তি পুকুরে নেমে আবিরকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পরে দ্রুত ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে আবিরসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের পুকুরে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে তারা পুকুরের এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে সাঁতরে যাওয়ার প্রতিযোগিতা করে। সহপাঠীরা সবাই সাঁতরে অপর পাড়ে পৌঁছে গেলেও আবিরকে খুঁজে পায়নি তারা।
পরে সহপাঠীরা তাকে খুঁজতে শুরু করে এবং পুকুরপাড়ে তার সাইকেল, স্কুলব্যাগ, শার্ট ও জুতা পড়ে থাকতে দেখে। বিষয়টি দ্রুত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জানানো হলে তারা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় পুকুরে জাল ফেলে এবং বিভিন্ন উপায়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে ব্যর্থ হন।
অন্যদিকে রংপুর বিশেষায়িত ডুবুরি দলকে খবর দেয়া হয়। কিন্তু ডুবুরি আসার আগেই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আবিরের লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
জিএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক সমির চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, বিদ্যালয়ের এক অফিস সহকারীর মৃত্যু হওয়ায় তার জানাজায় অংশ নিতে দুপুরে অধিকাংশ শিক্ষক বিদ্যালয়ের বাইরে ছিলেন। টিফিনের সময় সেই সুযোগে আবিরসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী পুকুরে গোসল করতে নামে। পরে আবির নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয় এবং ডুবুরি দলকে খবর দেয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এর আগেও এই পুকুরে দুর্ঘটনা ঘটেছে। পুকুরটি ভরাটের বিষয়ে এলাকার সুধীজন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আব্দুল লতিফ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। নিখোঁজের পর থেকে ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয়রা নানাভাবে উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন। পরে ডুবুরি দলকেও খবর দেয়া হয়েছিল। সন্ধ্যার দিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। নিহতের স্বজনরা এসেছেন। এ বিষয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।



