নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে চার বছর ধরে জোরপূর্বক দোকান দখল, ভাড়া না দেয়া ও প্রাণনাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বসুরহাট পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলার আবুল খায়ের এ অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে অভিযোগকারী নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নোয়াখালী টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে আবুল খায়ের বলেন, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর বসুরহাট বাজারে ওয়ারিশসূত্রে মালিক দুই ভাইয়ের ওয়ারিশ ও তিন বোনের কাছ থেকে কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট বাজারে অবস্থিত ছেরাজ প্লাজা এবং হাজী মার্কেটের ৪ শতাংশ ৮০ পয়েন্ট সম্পত্তি ক্রয় করেন। উক্ত মার্কেট দু’টিতে মোট ২০টি দোকান আছে।
তিনি বলেন, মার্কেটের ভাড়াটিয়া দোকানদার খায়রুল বাশারসহ অন্যান্য ভাড়াটিয়ারা গত চার বছর ধরে কোনো প্রকার ভাড়া পরিশোধ না করে অবৈধভাবে আমার মার্কেটের দোকান দখল করে রেখেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, একজন বৈধ মালিক হিসেবে আমি যখনই তাদের কাছে দোকান ভাড়া দাবি করছি, তখনই তারা একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের প্রভাব দেখিয়ে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
তিনি আরো বলেন, এ সঙ্কট সমাধানে বসুরহাট ব্যবসায়ী সমিতি কার্যালয়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। নিরুপায় হয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। দোকান ছেড়ে দেয়ার জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও তারা দোকান খালি করেনি। উল্টো তারা আমাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ৩০ লাখ টাকার চাঁদা দাবি করেন।
ভুক্তভোগী আবুল খায়ের বলেন, নিরুপায় হয়ে ৬ জুলাই আমি নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি। আমার কষ্টার্জিত টাকায় কেনা সম্পত্তি চার বছর ধরে অবৈধ ভাড়াটিয়াদের দখলে। বছরের পর বছর ভাড়া না পেয়ে আমি কয়েক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন। আমার পিঠ আজ দেয়ালে ঠেকে গেছে, পরিবার নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। তাই তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
দোকান দখল করে রাখা ও ভাড়া পরিশোধ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভাড়াটিয়া ও মামলার আসামি খায়রুল বাশার বলেন, অভিযোগকারী আবুল খায়ের যেই সব ওয়ারিশের কাছ থেকে মার্কেটের সম্পত্তি কেনার দাবি করছেন, তারা সেখানে মালিক নন।
তিনি বলেন, আবুল খায়ের ভুয়া দলিল ও কাগজপত্র তৈরি করে নিজেই অবৈধভাবে মার্কেট দখলে নেয়ার চেষ্টা করছেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি একের পর এক মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছেন।



