বরিশাল বিএম কলেজে উন্নয়ন, তবু শিক্ষক-পরিবহন সঙ্কট

বিএম কলেজের শিক্ষার্থী মিম আক্তার বলেন, ‘উন্নয়ন কাজ হচ্ছে, এটা অবশ্যই ভালো। কিন্তু শিক্ষক ও পরিবহন সঙ্কট না কমলে আমরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাবো না।’

আযাদ আলাউদ্দীন, বরিশাল ব্যুরো

Location :

Barishal
সরকারি ব্রজমোহন (বি.এম) কলেজ
সরকারি ব্রজমোহন (বি.এম) কলেজ |নয়া দিগন্ত

বরিশাল নগরীতে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন (বি.এম) কলেজ। প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর এই বিদ্যাপীঠে একদিকে চলছে প্রায় ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকার বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা, অন্যদিকে শিক্ষক স্বল্পতা ও পরিবহন সঙ্কট শিক্ষার স্বাভাবিক গতিকে বারবার বাধাগ্রস্ত করছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস সংস্কার, অ্যাকাডেমিক ভবন উন্নয়ন, ড্রেনেজ ও রাস্তা নির্মাণ, নতুন গেট, আধুনিক মিলনায়তন, ১০ তলা হোস্টেল ভবন এবং ১০ তলা অ্যাকাডেমিক-প্রশাসনিক ভবন নির্মাণসহ একাধিক প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা অনেকটাই কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্রে আরো জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠটিতে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার হল, ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক হল, বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাস ও জীবনানন্দ দাস হলের সংস্কার ও মেরামতের জন্য ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক সঙ্কট এখনো প্রকট। কলেজটিতে বর্তমানে প্রায় ১৭২ জন শিক্ষক থাকলেও ২২টি বিভাগ ও এইচএসসি বিভাগসহ প্রায় ৩০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় এই সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। অনেক বিভাগেই মাত্র চার থেকে আটজন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে, যেখানে প্রয়োজন অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষক। ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সিলেবাস শেষ করতে বিলম্ব, পরীক্ষার আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব সব মিলিয়ে শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিবহন সঙ্কটও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির আরেকটি বড় কারণ। এত বড় প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে মাত্র চারটি বাস রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অর্থায়নে কেনা। দীর্ঘ ৩২ বছরেও সরকার বা রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে কলেজটি কোনো বাস পায়নি। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিএম কলেজের শিক্ষার্থী মিম আক্তার বলেন, ‘উন্নয়ন কাজ হচ্ছে, এটা অবশ্যই ভালো। কিন্তু শিক্ষক ও পরিবহন সঙ্কট না কমলে আমরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাবো না।’

অন্য শিক্ষার্থী তারেক মাহমুদ জানান, ‘চারটি বাস দিয়ে এত শিক্ষার্থীর চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। অনেক সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে ক্লাস মিস করতে হয়।’

এদিকে সঙ্কট নিরসনে কলেজ প্রশাসন আরো দুইটি বাস কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, এটি প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

এ বিষয়ে সরকারি বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শেখ মো: তাজুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘বাংলার অক্সফোর্ড’ খ্যাত এই প্রতিষ্ঠানে যে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলছে তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর এই কলেজে আরো বড় পরিসরে উন্নয়ন প্রয়োজন। এখনো শিক্ষক সঙ্কট ও পরিবহন সঙ্কট প্রকট আকারে রয়েছে, যা দ্রুত সমাধান করা জরুরি। আমরা সকল বিষয় সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’

উল্লেখ্য, ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠটি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ ও পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বরিশালের এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি সত্যিকার অর্থেই একটি আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হবে।