বোয়ালমারীতে প্রবাসীর মেয়েকে অপহরণের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের রাঙামুলারকান্দী গ্রামের রেমিটেন্স যোদ্ধা, লিবিয়া প্রবাসী মনির মল্লিক মা বৃদ্ধা নুরজাহান বেগম। সম্প্রতি তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

Location :

Boalmari
বোয়ালমারীতে প্রবাসীর পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
বোয়ালমারীতে প্রবাসীর পরিবারের সংবাদ সম্মেলন |নয়া দিগন্ত

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের রাঙামুলারকান্দী গ্রামের রেমিটেন্স যোদ্ধা, লিবিয়া প্রবাসী মনির মল্লিক মা বৃদ্ধা নুরজাহান বেগম। সম্প্রতি তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

এতে স্থানীয় প্রভাবশালী ফারুক মোল্যা ও তার ছেলে জিহাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হামলা, মালামাল লুট, শারীরিক নির্যাতন, অপপ্রচার ও মামলা তুলে না নিলে কিশোরী মেয়েকে অপহরণের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কোন্দারদিয়ায় রোববার (১৯ এপ্রিল) বেলা ৩টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কন্ঠে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন লিবিয়া প্রবাসী মনির মল্লিকের স্ত্রী আসমা বেগম।

তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘সংসারের অভাব অনটন মিটাতে প্রথমে আমার ১ বছর বয়সী মেয়েকে রেখে বিদেশে কাজ নিয়ে যাই, পরে আমার স্বামীকে লিবিয়া পাঠিয়ে আমি দেশে ফিরে আসি। আমার স্বামী দীর্ঘ ১ যুগ লিবিয়াতে কর্মরত রয়েছেন। গত ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর রাতে লিবিয়ার ত্রিপল্লীতে মাম্মি সুইটস বেকারি নামের একটি খাদ্য উৎপাদন কারখানা থেকে আমার স্বামীসহ চার বাংলাদেশীকে অপহরণ করে একটি মাফিয়া চক্র।

অপহৃতদের মধ্যে ছিলেন মনির মল্লিক, জিহাদ মোল্যা, মিনহাজ শেখ ও সাব্বির। জিহাদ মোল্যা একই গ্রামের মো: ফারুক মোল্যার ছেলে। লিবিয়ায় একই কারখানায় আমার স্বামীর অধীনে কাজ করতেন তারা।

অপহরণের পর জিহাদের পরিবারের সাথে মুক্তিপণ চেয়ে যোগাযোগ করে মাফিয়া চক্র। সে সময় জিহাদসহ অন্যদের মুক্ত করতে জিহাদের বাবা ফারুক মোল্যাকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার দেই। আমার দেয়া টাকাসহ মোট ১০ লাখ টাকা মাফিয়া চক্রকে দিয়ে জিহাদকে মুক্ত করা হয়। অন্য অপহৃতদের জন্য আলাদা মুক্তিপণ দাবি করে মাফিয়া চক্র।

এ সময় আমার স্বামী মনির মল্লিককে ছাড়াতে ফারুক মোল্যার মাধ্যমে মাফিয়া চক্রের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা হলে প্রথমে ১০ লাখ টাকা ফারুক মোল্যার হাতে তুলে দেয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও মনির মুক্তি না পেলে ভিন্ন পথে তিন দফায় ৫০ লাখ টাকা দিয়ে মনির মল্লিককে মুক্ত করা হয়।

আসমা বেগম আরো বলেন, জিহাদের মুক্তিপণ বাবদ হাওলাদ দেয়া সাড়ে ৫ লাখ ও আমার স্বামীর মুক্তিপণ বাবদ দেয়া ১০ লাখ টাকাসহ মোট ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা জিহাদ দেশে এলে দাবি করায় তারা আমার পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো আমার কাছে জিহাদের মুক্তিপণ ১০ লাখ টাকা দাবি করে। ও মাফিয়া চক্রের সাথে আমাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে এলাকায় অপপ্রচার চালাতে থাকে।

জিহাদকে আমার স্বামী লিবিয়ায় না নিলেও তারা মিথ্যা ভিত্তিহীনভাবে দাবি করছে যে তার ভিসা বাবদ আমাদের টাকা দিয়েছে অথচ তার কোনো দলিল তারা দিতে পারেনি। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে অভিযুক্তরা। এমনকি আমার মেয়েকে অপহরণের হুমকিও দেয়া হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

প্রবাসীর মা নুরজাহান বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছি। এখন তার মুক্তিপণ নিয়ে প্রতারণার পাশাপাশি আমাদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

ভুক্তভোগী পরিবারের মেয়ে অভিযোগ করে বলেন, মাদরাসায় যাওয়া-আসার পথে তাকে উত্ত্যক্ত করা হচ্ছে এবং অপহরণের ভয় দেখানো হচ্ছে। আতঙ্কে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে।

অভিযুক্ত ফারুক ও তার ছেলে জিহাদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মালামাল লুটের একটি অভিযোগ পেয়ে পুলিশ দুজনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে। পাশাপাশি লুট হওয়া কিছু মালামাল উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।