রাজশাহী নগরীর দামকুড়া থানা এলাকায় সঙ্ঘটিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সঙ্ঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসাথে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা, চারটি ব্যাটারি ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
গাজিউর রহমান জানান, রিকশাচালক মামুনুর রশিদ গত ২ মে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রতিদিনের মতো ভাড়ায় চালানোর উদ্দেশ্যে অটোরিকশা নিয়ে গ্যারেজ থেকে বের হন। রাতে তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরদিন সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে দামকুড়া থানা পুলিশ জোতরাবোন উত্তরপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাবুল দামকুড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, দুর্বৃত্তরা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে কোর্ট স্টেশন এলাকা থেকে কাশিয়াডাঙ্গা বাজারে যাওয়ার কথা বলে মামুনুর রশিদের অটোরিকশা ভাড়া নেয়। পথে কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ে একটি চায়ের দোকানে চায়ের সাথে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তাকে খাওয়ানো হয়। পরে দামকুড়া থানার জোতরাবোন এলাকায় পৌঁছালে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
ঘটনার পর থেকেই আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় ডিবির একটি বিশেষ দল ছায়াতদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) শাহ আলী মিয়া ও তার দল গত ১৫ মে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধার করেন।
একইসাথে গ্রেফতার করা হয় হড়গ্রাম পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মাসুদ রানার ছেলে তানভীর রানা প্রান্ত, লক্ষীপুর ভাটাপাড়ার বাসিন্দা ইনসানের ছেলে শামীম, আলীগঞ্জ পূর্ব মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা জামালের ছেলে রাব্বি ও ভাটাপাড়ার বাসিন্দা মোকলেসের ছেলে নূর আলমকে।
পরে গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৯ ও ২০ মে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা মরহুম আব্দুল রশিদের ছেলে ওমর ফারুক বাবুসহ আরো চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার অন্য তিনজন হলেন— সুতাহাটি এলাকার বাসিন্দা রাজ্জাকের ছেলে সেলিম, মাসকাটাদিঘি এলাকার বাসিন্দা মরহুম কালামের ছেলে সুজন ও খরিবোনা এলাকার বাসিন্দা মরহুম আইনুদ্দিনের ছেলে রাহেনুল হক।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা, অটোরিকশার চারটি ব্যাটারি ও ব্যাটারি খোলার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান।



