গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের গুটিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নতুন কমিটিতে স্থান না পেয়ে মসজিদে তালা দেয়ার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট জালাল খান (সারোয়ার) গাজীপুর জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক এবং আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের একজন স্বঘোষিত কাউন্সিলর প্রার্থী।
এ ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও সমাধান না হওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন কমিটি গঠনের কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৩ জুলাই শুক্রবার রাতে এশার নামাজের পর মসজিদের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আহ্বায়ক কমিটির বৈঠক চলাকালে জালাল খান সেখানে গিয়ে বৈঠকে আপত্তি তোলেন।
উপস্থিত ব্যক্তিদের অভিযোগ, আহ্বায়ক কমিটিতে নিজের নাম না থাকায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া কোনো কমিটি গঠন করা যাবে না বলে হুমকি দেন। একপর্যায়ে আহ্বায়ক কমিটির কাগজপত্র ছুড়ে ফেলে দিয়ে মসজিদে তালা দেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। এতে বৈঠক পণ্ড হয়ে যায় এবং পরে এলাকাবাসী মসজিদ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা আগের কমিটি নিয়ে তেমন কোনো অভিযোগ না থাকলেও কয়েক মাস ধরে জালাল খান নিজেকে সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থী ঘোষণা করে কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তার ধারাবাহিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে পুরোনো কমিটির সদস্যরা দায়িত্ব ছেড়ে দিলে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়।
মুসল্লিদের সর্বসম্মতিক্রমে গ্রামের পাঁচটি পাড়ার ৫১ জন মুরব্বিকে নিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। জুমার নামাজের সময় সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হলেও জালালের নাম তালিকায় ছিল না। সে সময় কোনো আপত্তি না উঠলেও রাতে বৈঠকে গিয়ে তিনি আপত্তি জানান বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত সদস্যরা।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘মসজিদ একটি পবিত্র ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। পদ-পদবির জন্য মসজিদে তালা দেয়ার হুমকি অত্যন্ত অশুভ ও নিন্দনীয়। সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজন হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাজী মো: এমরান সরকার বলেন, ‘মসজিদ পরিচালনার বিধিমালা অনুযায়ী নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়কারী মুসল্লিদের মধ্য থেকেই সদস্য নির্বাচন করা হয়েছে। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছেন জালাল খান।’
একই কমিটির সদস্য ও থানা বিএনপির নেতা ইউনুছ আলী অভিযোগ করেন, দলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন জালাল। তার কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মসজিদের মুতাওয়াল্লি হাজী তাইজুল ইসলাম বলেন, মসজিদের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। দীর্ঘসূত্রতায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সংকট আরো গভীর হচ্ছে।
এদিকে, জালাল খানের বিরুদ্ধে এর আগেও স্থানীয় গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. খায়রুন্নেছা বলেন, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকলেও জালাল খান সভাপতি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এতে বাধা দিলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার চালানো হয়।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অ্যাডভোকেট জালাল খান বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে একই ব্যক্তি মসজিদ, মাদরাসা ও ঈদগাহ পরিচালনা করছেন। আমি হিসাব চেয়েছি এবং অনিয়মের প্রতিবাদ করেছি। এজন্য আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। আমি কখনো মসজিদে তালা দেয়ার হুমকি দিইনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘যারা নিয়মিত মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, এমন মুরব্বিদের মধ্য থেকে সবার মতামতের ভিত্তিতে যেকোনো একজন গ্রহণযোগ্য মুরব্বীকে সভাপতি করার প্রস্তাব করেছি। কিন্তু তারা তা মানতে নারাজ।’



