বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রচারণা ও পণ্য প্রচারে ব্যবহার করা মাইকের উচ্চমাত্রার মাইকিংয়ে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মানুষের প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় মাইক বেঁধে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রচারণা ও পোলট্রি মুরগির দাম হ্রাস থেকে শুরু, বিশাল গরু-মহিষ জবাই ইত্যাদি নিয়ে প্রচার চালানো হয়।
কোনো নিয়মনীতি না মেনে সুখবরের নামে মাইকের আওয়াজে অতিষ্ঠ উপজেলার বাসিন্দারা।
সচেতন নাগরিক ও শিক্ষার্থীরা এর প্রতিকার চেয়েছেন। উচ্চ শব্দে মাইকিং বন্ধের ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পৌরসভার বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিন বিভিন্ন পণ্য ও সেবার সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মাইকিংয়ের নামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান শব্দ দূষণ করছে। এতে পৌরবাসীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।
উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, মাইকের শব্দে দোকানে বসে থাকাটাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। মাইকের শব্দে বেচাকেনা করাও কঠিন। কাস্টমারের কথাও ঠিক করে শুনতে পারি না।
শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, নির্দিষ্ট কোনো সময় না মেনে উপজেলার প্রতিদিন সুখবরের নামে উচ্চ শব্দে মাইকিং করা হয়। প্রতিদিন সুখবর সুখবর শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। এতে আমাদের পড়াশোনায় সমস্যা হয়। প্রশাসনের এতে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
শব্দ দূষণের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: এস এম মাইদুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, উচ্চ শব্দে মাইকিং চলতে থাকলে পর্যায়ক্রমে উপজেলা বাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে শ্রবণ সমস্যায় ভুগতে হবে। বিশেষ করে নবজাতকের ক্ষেত্রে এক থেকে ২৮ দিন শব্দ দূষণ খুব ক্ষতির কারণ। অতিরিক্ত শব্দে স্ট্রেক, হার্ট অ্যাটাক ও মানসিক অসুখের ঝুঁকি বাড়ায়।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রকিবুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘সড়কে উচ্চ শব্দে অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজালে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া আবাসিক এলাকায় কোনো অনুষ্ঠান থেকে অতিরিক্ত মাইক ব্যবহার ও উচ্চ শব্দে কারো ব্যাঘাত ঘটছে এ ধরনের কোনো খবর পেলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়।’
ওসি আরো বলেন, ‘আয়োজকদের আমরা প্রথমে শব্দ দূষণ আইন সম্পর্কে বুঝিয়ে উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলি। কেউ আইনের ব্যত্যয় ঘটালে আইন প্রয়োগ করি।’
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আলী সুজা নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘হর্ন বা উচ্চ আওয়াজে মাইক ব্যবহার করে শব্দদূষণ করা বেআইনি। শব্দ দূষণ রোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
ইউএনও আরো বলেন, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৬ এর ১৮ নম্বর ধারায় বলা আছে, কোনো ব্যক্তি বিধিমালার বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করে দোষী সাব্যস্থ হলে তিনি অপরাধের জন্য কারাদণ্ড বা অনধিক অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।



