কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ জেলার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন।
মঙ্গলবার ( ১৯ মে) বিকেলে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার উন্নয়ন, সম্ভাবনা, সুশাসন, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফি খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সহ-সভাপতি অধ্যাপক লিয়াকত আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব নীলু, রেজাউল করিম রেজা ও শ্যামল ভৌমিক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবের সদস্য ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, “কুড়িগ্রাম সম্ভাবনাময় জেলা হলেও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি।”
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা সমাজের দর্পণ। জেলার সমস্যা, দুর্ভোগ, অনিয়ম, দুর্নীতি ও সম্ভাবনাগুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়, সমাজ পরিবর্তনেরও শক্তিশালী হাতিয়ার। কুড়িগ্রামের নদীভাঙন, বেকারত্ব, কৃষি, যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সীমাবদ্ধতা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ সহজ হবে।
ড. মুজাহিদ বলেন, “জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রশাসনের কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বয়ের মাধ্যমে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।”
এর আগে দুপুর ১২টায় কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক মিলনায়তনে প্রেস ব্রিফিং করেন।
এ সময় তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “কিছু ভূমি কর্মকর্তা ও ইউএনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেয়ার জন্য কাজ করছেন। তারা একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।”
তিনি আরো বলেন, সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ীসহ বিভিন্ন উপজেলার কিছু কর্মকর্তার আচরণ জনগণবিরোধী বলে তার কাছে মনে হয়েছে। জনগণের সেবা নিশ্চিত করার পরিবর্তে অনেকেই ক্ষমতা প্রদর্শনে বেশি আগ্রহী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, সদস্য সচিব মাসুম মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান তাওহীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, শ্রমিক শক্তির জেলা আহ্বায়ক মজনু মিয়াসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।



