কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় সেনাসদস্যবাহী বাসের সাথে অন্য একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ওজিয়ার রহমান (৪৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ২৭ জন সেনাসদস্যসহ দুই বাসের অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন।
আহতদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সেনা সদস্যেদের যশোর সিএমএইচ ও খুলনা সেনানিবাসে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার তালবাড়ীয়া এলাকার কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ওজিয়ার রহমান বাগেরহাট জেলার মোগেলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তিনি হিমেল পরিবহনে খুলনা থেকে ময়মনসিংহে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হিমেল পরিবহনের একটি বাস খুলনা থেকে জামালপুর যাচ্ছিল। অন্যদিকে ঈদের ছুটি শেষে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট থেকে সেনাসদস্যদের নিয়ে আরেকটি বাস খুলনায় যাচ্ছিল। পথিমধ্যে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়ীয়া এলাকার পুলিশ ক্যাম্পের কাছে বাস দু’টির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে দু’টি বাসই দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওজিয়ার রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান বলেন, ‘দু’টি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন মারা গেছেন। আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেনা কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে জানান, বগুড়া থেকে আসা সেনা সদস্যদের বহনকারী বাসে যাত্রী ছিল ৪২ জন। এর মধ্যে ২৫ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের যশোর সিএমএইচ ও খুলনা সেনানিবাসে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হচ্ছে।
এদিকে হিমেল পরিবহনের যাত্রী সেনাবাহিনীর কর্পোলার মাসুম (৩৫) ও ল্যান্স নায়েক সোহানুর রহমান (৩২) গুরুতর আহত হয়েছে। তারা ঈদের ছুটি শেষে খুলনা থেকে হিমেল পরিবহনে করে নিজ কর্মস্থল যমুনা সেতু সেনানিবাসে যাচ্ছিলেন।
আহত সেনাসদস্যরা জানান, সকালে বগুড়া থেকে বাসটি খুলনার উদ্দেশে ছেড়েছিল। বাসটি বিভিন্ন স্থান থেকে সেনা সদস্যদের নিয়ে খুলনার জাহানাবাদ সেনানিবাসে এএসসি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে যাচ্ছিল। হঠাৎ সামনে দ্রুতগতিতে আসা আরেকটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে তাদের বাসটির সংঘর্ষ হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে রয়েছেন— মিলন (২৮), সাজিদ (২৫), রুস্তম (১৮), মইনুল হক (৪৫), বাসের ড্রাইভার হেলাল উদ্দিন (৪৫) ও হেলপার খবির মোল্লা (৬০)।
কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল ওবায়েদ বলেন, ‘ঘটনা পরপরই স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দুই বাসের যাত্রীদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।’
খবর পেয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন হাসপাতালে হতাহতদের দেখতে যান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাসটিতে ৪০-৪২ জন সেনাসদস্য ছিলেন। তারা সবাই সেনাবাহিনীতে নতুন রিক্রুট। কম-বেশি অনেকেই আহত হয়েছেন। আহত সবাইকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ কুষ্টিয়া হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন। এছাড়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন হাসপাতালে আহতদের খোঁজখবর নেন।
জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে শহর জামায়াতের আমির এনামুল হকের নেতৃত্বে একটি টিম দীর্ঘ সময় হাসপাতালে অবস্থান করে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং সহযোগিতা করেন।



