কুড়িগ্রামে শিশু আয়েশা হত্যার ঘটনায় প্রতিবেশী দম্পতি গ্রেফতার

ঘটনার দিন আয়েশা পাশের বাড়িতে কহিনুর বেগমের ছেলের সাথে খেলাধুলার সময় একটি কলম দিয়ে তার (আয়েশার) চোখে আঘাত লাগে। এতে রক্তক্ষরণ শুরু হলে শিশুটি চিৎকার করতে থাকে।

রেজাউল করিম রেজা, কুড়িগ্রাম

Location :

Kurigram
শিশু হত্যার ঘটনায় জড়িত গ্রেফতার স্বামী-স্ত্রী
শিশু হত্যার ঘটনায় জড়িত গ্রেফতার স্বামী-স্ত্রী |নয়া দিগন্ত

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছরের শিশু আয়েশা আক্তার হত্যার ঘটনায় প্রতিবেশী এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, চিলমারী উপজেলার মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের দুই বছর বয়সী মেয়ে আয়েশা গত ১৭ এপ্রিল সকালে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে একইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে নিহত শিশুর বাবা অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে চিলমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পরপরই কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উলিপুর সার্কেল) মো: আশরাফুল আলমের তত্ত্বাবধানে চিলমারী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ একটি দল তদন্তে নামে।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) অভিযান চালিয়ে মাচাবান্ধা এলাকার বাসিন্দা কহিনুর বেগম (২৬) ও তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেলকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন আয়েশা পাশের বাড়িতে কহিনুর বেগমের ছেলের সাথে খেলাধুলার সময় একটি কলম দিয়ে তার (আয়েশার) চোখে আঘাত লাগে। এতে রক্তক্ষরণ শুরু হলে শিশুটি চিৎকার করতে থাকে। তখন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কহিনুর বেগম শিশুটির মুখ চেপে ধরেন। একপর্যায়ে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে মারা যায়। পরে লাশটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে লুকিয়ে রাখা হয় এবং রাতের অন্ধকারে পাশের জমিতে ফেলে দেয়া হয়।

গ্রেফতার দু’জনকে আজ শুক্রবার (১ মে) কুড়িগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে কহিনুর বেগম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আশরাফুল আলম বলেন, ‘ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় দ্রুত তদন্ত শুরু করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’