অর্থকষ্টে বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়া বিএনপি নেতা বিল্লালের পরিবারের পাশে এ টি এম কামাল

রাজনীতির মাঠে যাদের ত্যাগে দল বড় হয়, ক্ষমতার পালাবদল ঘটে সময়ের আবর্তে সেই লড়াকু কর্মীদের অনেকের ঠাঁই হয় স্মৃতির ধুলোবালিতে। এমনই এক লড়াকু সৈনিক ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির প্রথম সারির মাঠের নেতা বিল্লাল হোসেন।

কামাল উদ্দিন সুমন, নারায়ণগঞ্জ

Location :

Narayanganj
বিএনপি নেতা বিল্লালের পরিবারের পাশে সহযোগিতা নিয়ে এ টি এম কামাল
বিএনপি নেতা বিল্লালের পরিবারের পাশে সহযোগিতা নিয়ে এ টি এম কামাল |নয়া দিগন্ত

রাজনীতির মাঠে যাদের ত্যাগে দল বড় হয়, ক্ষমতার পালাবদল ঘটে সময়ের আবর্তে সেই লড়াকু কর্মীদের অনেকের ঠাঁই হয় স্মৃতির ধুলোবালিতে। এমনই এক লড়াকু সৈনিক ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির প্রথম সারির মাঠের নেতা বিল্লাল হোসেন।

রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে যিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালের ছায়াসঙ্গী। অথচ জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো তাকে কাটাতে হয়েছে প্রচণ্ড অর্থকষ্ট আর অবহেলায়।

নারায়ণগঞ্জের গোগনগর ইউনিয়নের সুকুমপট্টি এলাকায় বিল্লাল হোসেনের মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই ছিল একতলার একটি আধাপাকা ঘর। কিন্তু অভাবের তাড়নায় সেই ঘরের ওপর ছাদ দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না পরিবারটির। দীর্ঘ সময় ধরে পলিথিন দিয়ে ছাদের কাজ চালিয়ে আসছিলেন তারা। রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই করেই কাটছিল বিল্লাল ও তার পরিবারের জীবন।

বিল্লাল হোসেন যখন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন, তখন রাজনৈতিক সহকর্মী বা দলের বড় নেতাদের কাউকেই পাশে পাননি বলে জানান তার স্ত্রী সোনিয়া বিল্লাল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দলের জন্য আজীবন নিবেদিতপ্রাণ থাকলেও শেষ সময়ে এ টি এম কামাল ছাড়া আর কেউ তাদের খোঁজ নেননি। বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকেই বিল্লাল পরপারে পাড়ি জমান।

বিল্লাল মারা গেলেও তার পরিবারের করুণ অবস্থার কথা ভোলেননি এ টি এম কামাল। গত সংসদ নির্বাচনের সময় দেশে এসে তিনি যখন বিল্লালের বাড়িতে যান, তখন পলিথিনে মোড়ানো সেই জীর্ণ ঘর দেখে স্তব্ধ হয়ে যান। সম্প্রতি তিনি আবারও বিদেশে ফিরে গেলেও ভুলে যাননি প্রয়াত সহকর্মীর পরিবারের কথা।

দূর প্রবাসে থেকেও তিনি এই অসহায় পরিবারটির ঘর নির্মাণের জন্য প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিল্লালের স্ত্রী সোনিয়ার চিকিৎসার দায়িত্বও নিয়েছেন তিনি। প্রয়োজন হলে ঘর নির্মাণের বাকি কাজের জন্য আরো আর্থিক সহায়তা দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন এই বিএনপি নেতা।

রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ব্যক্তিগত মমত্ববোধ আর সহমর্মিতার এক বিরল উদাহরণ তৈরি করেছেন এ টি এম কামাল। বিল্লালের স্ত্রী সোনিয়া বিল্লাল এখন এই সহায়তায় ঘরের ছাদে ঢালাই দেয়ার স্বপ্ন দেখছেন। রাজনীতির মাঠে সহযোদ্ধার বিদায়ে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এই উদ্যোগ এলাকায় বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

অনেকেই মনে করছেন, মাঠের নিবেদিত কর্মীদের প্রতি এমন ভালোবাসা আর দায়বদ্ধতা বর্তমান সময়ে বিরল। বিল্লাল হোসেন হয়তো শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন এই ভেবে যে, তার অসমাপ্ত ঘরের ওপর অবশেষে একটি স্থায়ী ছাদ হতে যাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল বলেন, বিল্লাল বিএনপির নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। আমরণ সে বিএনপির দুঃসময়ে দলের জন্য যে ভূমিকা রেখে গেছে সেকথা আমি কখনও ভুলতে পারবো না। সে আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিল। সবসময় সে আমার সাথে সকল কর্মকাণ্ডে থাকতো। আমি যে পদযাত্রা করতাম, পায়ে হেটে শতশত মাইল দূরে গিয়েছি। সেগুলোতেও সে আমার সাথে ছিল।

তিনি আরো বলেন, বিল্লাল ইন্তেকাল করেছে। তার ছেলে মেয়ে নেই। তার স্ত্রী মানবেতর জীবন যাপন করছে। তার ঘরটি জরাজীর্ণ। তার স্ত্রী বলেছিল আমি যেন সেটা ঠিক করে দেই। আমি আমার সামান্য সামর্থ্য দিয়ে সেই ব্যাবস্থাটুকু করলাম। তার চিকিৎসা ও ওষুধপত্রের জন্য যে টাকা প্রয়োজন, বাড়ি সংস্কার করেও আপাতত সেটা সে করতে পারবে। বিল্লালের মত কর্মীদের খোঁজ খবর আমাদের সকলের রাখা উচিত।