চুয়াডাঙ্গায় শিশু ধর্ষণ-হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

আদালত সূত্র জানায়, বিচার চলাকালে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এছাড়া মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনও তার বিরুদ্ধে ইতিবাচক (পজিটিভ) আসে।

এফ এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা

Location :

Chuadanga
নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী মরিয়ম খাতুনকে (১০) ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে (২৯) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোক্তাগীর আলম জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর কড়া পুলিশ প্রহরায় দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল হোসেনকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল হোসেন জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের দুই মেয়ে মরিয়ম খাতুন ও আছিয়া খাতুন (৮) আরো দুই প্রতিবেশী শিশুকে সাথে নিয়ে স্থানীয় হাড়িভাঙ্গা মাঠে শাক তুলতে যায়। দুপুর ১২টার দিকে অন্য শিশুরা বাড়ি ফিরে মরিয়মের মাকে জানায়, মাঠে শাক তোলার সময় এক ব্যক্তি রাস্তার ওপর ভ্যান রেখে তাদের কাছে আসে। সে মরিয়মকে বেশি করে শাক তুলে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতের দিকে নিয়ে যায় এবং অন্য শিশুদের সেখানে অপেক্ষা করতে বলে। বেশ কিছু সময় পর ওই ব্যক্তি একা ফিরে এলে শিশুরা মরিয়মের কথা জানতে চায়। তখন সে জানায়, মরিয়ম একটু পরেই আসবে। শিশুদের কথায় সন্দেহ হলে মরিয়মের মা ও প্রতিবেশীরা মাঠে ছুটে যান। পরে স্থানীয় আলী হোসেনের ভুট্টা ক্ষেত থেকে মরিয়মের গলাকাটা রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর নিহতের বাবা ইকবাল হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে আবুল হোসেন ওরফে ফটিকের সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম তাকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালত সূত্র জানায়, বিচার চলাকালে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এছাড়া মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনও তার বিরুদ্ধে ইতিবাচক (পজিটিভ) আসে।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে এ রায় দেন। গত বুধবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য সোমবার দিন ধার্য করা হয়েছিল।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট এম. এম. শাহজাহান মুকুল বলেন, এটি একটি নির্মম ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ছিল। রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। সর্বোচ্চ এই শাস্তির আদেশের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ আড়াই বছর পর তাদের মেয়ের উপযুক্ত ন্যায়বিচার পেল। মামলায় আসামিপক্ষের স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ওহিদুজ্জামান মুকুল।