নজরুল ইসলাম

‘দিল্লি না ঢাকা: ঢাকা ঢাকা’ স্লোগান প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সমুন্নত হয়েছে

‘মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমরা চির কৃতজ্ঞ। দেড়যুগের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে চব্বিশের রক্তক্ষয়ী বিপ্লবও বর্তমান সময়ের ডকট্রিন অব নেসেসিটি। এটার মাধ্যমেই ‘দিল্লি না ঢাকা: ঢাকা ঢাকা’ স্লোগান প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সমুন্নত হয়েছে।’

চট্টগ্রাম ব্যুরো

Location :

Chattogram
মহান স্বাধীনতা দিবসে  চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আলোচনা সভায়  নজরুল ইসলাম
মহান স্বাধীনতা দিবসে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আলোচনা সভায় নজরুল ইসলাম |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমরা চির কৃতজ্ঞ। দেড়যুগের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে চব্বিশের রক্তক্ষয়ী বিপ্লবও বর্তমান সময়ের ডকট্রিন অব নেসেসিটি। এটার মাধ্যমেই ‘দিল্লি না ঢাকা: ঢাকা ঢাকা’ স্লোগান প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সমুন্নত হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীর জামায়াতের নিজস্ব মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ইতিহাসের যুগসন্ধিক্ষণে পরিচালিত অভিযান, বিক্ষোভ, অভ্যুত্থান, বিপ্লব, গণভোট ইত্যাদি ডকট্রিন অব নেসেসিটি। শুধু সংবিধান দিয়ে দেশ চলে না; ডকট্রিন অব নেসেসিটি মেনে নিতে হয়। ১৯৭০ নির্বাচনের ম্যান্ডেট অস্বীকার করায় মহান মুক্তিযুদ্ধ সে সময়ের ডকট্রিন অব নেসেসিটি ছিলো, যার মাধ্যমে লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছি আমরা। ১৯৭২ সালের সংবিধানকে সত্যায়ন(অথেনটিকেশন) করতে ১৯৭০ এর নির্বাচনের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে ‘গণপরিষদ’ গঠন করা হয়েছিল। অনুরূপভাবে জুলাই সনদকে আইনি মর্যাদা দিতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করা হয়েছে। বিএনপির সংসদ সদস্যরা এ পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে জুলাই শহীদদের অমর্যাদা করেছেন, গণভোটের মর্যাদাকে অস্বীকার করেছেন। পরবর্তী সংসদ অধিবেশনেই এর সমাধান করতে হবে; নতুবা আন্দোলনের বিকল্প থাকবে না।

তিনি আরো বলেন, বাকশালী শাসন উৎখাত করতে ১৫ আগস্ট বিপ্লব, ইসলামী গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষণা দিয়ে খোন্দকার মুশতাকের ৮৩ দিনের শাসন, সিপাহী-জনতার ‘বাংলাদেশ-জিন্দাবাদ’ এবং ‘নারায়ে তাকবির- আল্লাহু আকবর স্লোগানের ভিত্তিতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর শহীদ জিয়ার ক্ষমতা লাভ, ১৯৭৭ সালে গণভোটের মাধ্যমে জিয়ার শাসনের প্রতি জনগণের ম্যান্ডেট- এসবই ছিলো ডকট্রিন অব নেসেসিটি। আজকের গণভোট অস্বীকার করলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার শাসনই অবৈধ হয়ে যায়। কাজেই বাস্তবতা মেনে নিয়ে জুলাই সনদের ভিত্তিতেই দেশ পরিচালনা করুন।

জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুছ, মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, ডা: এ কে এম ফজলুল হক, ডা: মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, আমির হোসাইন, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, ড. আ ম ম মাসরুর হোসাইন প্রমুখ।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহী, ফখরে জাহান সিরাজী, ফারুকে আজম, জাকের হোসাইন, মাহবুবুল হাসান রুমী, আহমদ খালেদুল আনোয়ার ও ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন প্রমুখ।