জুলাইয়ের স্মৃতি মুছে ফেলার অপচেষ্টা এবং চট্টগ্রামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচিতে পুলিশ কর্তৃক হামলা, হেনস্তা ও আটক করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ।
সোমবার (১৮ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন ও সেক্রেটারি রাকিবুল ইসলাম এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘১৭ মে চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাসস্থ নগর ভবন এলাকায় মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেনের নির্দেশনায় জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গ্রাফিতি মুছে ফেলে সেখানে বিজ্ঞাপন টু-লেট স্থাপন করা হয়। এটি কেবল কিছু দেয়ালচিত্র অপসারণ নয়; বরং জুলাইয়ের আন্দোলন, আত্মত্যাগ ও গণআকাঙ্ক্ষার স্মৃতিকে পরিকল্পিতভাবে মুছে ফেলার ঘৃণ্য অপচেষ্টা।’
‘এর প্রতিবাদে সোমবার সাধারণ শিক্ষার্থীরা নতুনভাবে জুলাইয়ের গ্রাফিতি অঙ্কনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে গেলে মেয়রের নির্দেশনায় পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং দমনমূলক আচরণ চালায়। এ সময় পুলিশি হামলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন, যাদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষার্থীও ছিলেন। অত্যন্ত ন্যাক্কারজনকভাবে নারী শিক্ষার্থীদের গায়েও হাত তোলে পুলিশ। এমনকি গ্যাজেটভুক্ত আহত জুলাই যোদ্ধাসহ কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে সাময়িকভাবে আটক করে রাখা হয়, যা চরম অমানবিক ও নিন্দনীয়।’
নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘চব্বিশের অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণের আন্দোলনের স্মৃতি মুছে ফেলার এ ধরনের ফ্যাসিবাদী আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও প্রতিবাদী কর্মসূচিতে বাধা প্রদান এবং পুলিশকে ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মূলত জনগণের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত প্রতিবাদের ওপর হামলা প্রমাণ করে, তারা এখনো দখলদার ও কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা থেকে বের হতে পারেনি। জনগণের টাকায় পরিচালিত প্রশাসন কখনো জনগণের অধিকার হরণ ও ইতিহাস বিকৃতির হাতিয়ার হতে পারে না।’
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা, নতুনভাবে গ্রাফিতি অঙ্কন ও তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী অতিউৎসাহী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একইসাথে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’



