বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে পুড়িয়ে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেফতার

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদক কারবারির ভাগ–বাটোয়ারা নিয়ে এনামুল হক শিশির ওরফে মাহী নামে এক তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি জহির ইসলাম ওরফে আপন ওরফে জহির (৪৬)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুড়িচং (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

Location :

Burichong
বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে পুড়িয়ে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেফতার
বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে পুড়িয়ে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেফতার |নয়া দিগন্ত

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় মাদক কারবারির ভাগ–বাটোয়ারা নিয়ে এনামুল হক শিশির ওরফে মাহী নামে এক তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি জহির ইসলাম ওরফে আপন ওরফে জহির (৪৬)-কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১, সিপিসি-২।

গ্রেফতার জহির কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রামপুর এলাকার জাফর আলীর ছেলে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১১, সিপিসি-২-এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক সিনিয়র এএসপি মিঠুন কুমার কুন্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সোমবার (১৮ মে) রাতে সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা এলাকা থেকে র‍্যাব-৬-এর সহযোগিতায় জহিরকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মাদক কারবারির বিরোধের জেরেই মাহীকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় দোলা নামে আরো একজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নিহত এনামুল হক শিশির ওরফে মাহী বুড়িচং উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ণমতি গ্রামের কামরুল হক ফরহাদের সন্তান। গত ১৩ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বুড়িচং পৌরসভার মধ্যবাজার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।

মামলার বরাতে বুড়িচং থানার ওসি লুৎফর রহমান জানান, বুড়িচং সদর ইউনিয়নের সরকারি একটি জায়গায় কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন। সেখানে এনামুল হক শিশির ‘মাহী’ পরিচয়ে তাদের সাথে বসবাস করতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও অন্তর্কোন্দল চলছিল।

ঘটনার দিন সকালে মাহীর সাথে কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা কামরুল হক ফরহাদ বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৭–৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।