সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে প্রতারণা চক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে পুলিশের বিশেষ শাখা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ফাঁদে ফেলে নগদ অর্থ ও সাড়ে ২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয়ার পর বিষয়টি পরিবারের নজরে এলে পুলিশে অভিযোগ জানায় তারা।
পরে ওই চক্রের মূল হোতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে জামালপুর পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
জানা যায়, শিক্ষার্থী লুবাবা (১২) শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা শেরপুর শহরের মাধবপুর এলাকার একজন বস্ত্র ব্যবসায়ী।
পিবিআই জানায়, পরিবারে অবহেলার শিকার হচ্ছে- এমন ধারণা থেকে লুবাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানো শুরু করে। একপর্যায়ে টিকটকে ‘খোরশেদ কবিরাজ’ নামে এক তান্ত্রিকের সাথে তার পরিচয় হয়।
পরে ওই প্রতারক ও তার সহযোগীরা ‘আল্লাহর দান’সহ বিভিন্ন নামে ইমো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কিশোরীর সাথে যোগাযোগ গড়ে তোলে এবং তার সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়।
প্রতারক চক্রটি গত ৬ থেকে ৯ মার্চের মধ্যে তান্ত্রিকের ফি, জায়নামাজ, আগরবাতি ও বিভিন্ন ফল কেনার কথা বলে কিশোরীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
পরে আরো বড় সমস্যা সমাধানের কথা বলে কৌশলে তার মা-বাবার প্রায় সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
ওই কিশোরী আবারো টাকা পাঠাতে গেলে বিকাশ অ্যাজেন্টের সন্দেহ হয়।
তিনি বিষয়টি কিশোরীর বাবাকে জানালে পুরো ঘটনাটি সামনে আসে। এ ঘটনায় তার বাবা শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা করেন।
মামলাটি পিবিআই মামলাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পিবিআই গত ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে মুছা মিয়া ও রফিকুল ইসলাম নামে প্রতারকচক্রের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে।
তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের মাসকান্দা থেকে মূল হোতা মনির হোসেনকে (২১) গ্রেফতার করা হয়।
মনিরের স্বীকারোক্তি মোতাবেক বাড়ির পাশের বাগানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ২৫ ভরি ৯ আনা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে পিবিআই। এ সময় একটি দামি আইফোনসহ পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
উদ্ধার করা মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৪ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, ‘অভিমানী কিশোরীর সরলতার সুযোগ নিয়ে বড় ধরনের এই প্রতারণা করে হয়েছে প্রতারক চক্র। আমাদের একাধিক দল কাজ করে মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার ও আত্মসাৎ করা স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’



