মুন্সীগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ডাকাতি, অর্ধকোটি টাকা লুট

মুখোশধারী ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল মরহুম আবুল মুন্সীর তিনতলা বাড়ির নিচতলার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রবেশের আগে তারা বাড়ির সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

আব্দুস সালাম, মুন্সীগঞ্জ

Location :

Munshiganj
ককটেল বিস্ফোরণের স্থান
ককটেল বিস্ফোরণের স্থান |নয়া দিগন্ত

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানায় মধ্যরাতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সশস্ত্র ডাকাতদল একটি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। হামলায় এক নারী আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের হাজিগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুখোশধারী ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল মরহুম আবুল মুন্সীর তিনতলা বাড়ির নিচতলার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রবেশের আগে তারা বাড়ির সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

ডাকাতরা বাড়িতে ঢুকে পারভিন আক্তার (৫০), ফরিদ মুন্সী (৪৭) ও মামুন মুন্সীসহ (৩৮) পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে। এ সময় ককটেলের বারুদের আঘাতে ফরিদ মুন্সীর স্ত্রী আয়েশা আক্তার আহত হন।

ডাকাতদল ঘরের আলমারি ভেঙে তছনছ করে পারভিন আক্তারের জমি বিক্রির ২১ লাখ টাকা, ফরিদ মুন্সীর চার লাখ টাকা, প্রায় ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার এবং তিনটি মোবাইল ফোন লুটে নেয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা।

ফরিদ মুন্সী জানান, ডাকাতরা প্রথমে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে আমাদের জিম্মি করে মারধর করে এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটে নেয়।

ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো: কামরান হোসেন এবং সহকারী পুলিশ সুপার (সিরাজদিখান সার্কেল) আনোয়ার পারভেজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সিরাজদিখান থানার ওসি (তদন্ত) মো: হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।’