গোপালগঞ্জে ১২ ঘণ্টার অভিযানে ঘাতক স্বামী গ্রেফতার, আদালতে স্ত্রী হত্যার স্বীকারোক্তি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার জেরে বর্ণা খাতুন (২৮) নামের এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

মো: সেলিম রেজা, গোপালগঞ্জ

Location :

Gopalganj
কাশিয়ানী থানা, গোপালগঞ্জ
কাশিয়ানী থানা, গোপালগঞ্জ |নয়া দিগন্ত

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার জেরে বর্ণা খাতুন (২৮) নামের এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত স্বামী ঘাতক আল আমিন ব্যাপারী ওরফে আলামিনকে (৩৭) গ্রেফতার করেছে কাশিয়ানী থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়।

গ্রেফতারের পর বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে রোমহর্ষক জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক স্বামী।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালী থানার রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত নূর ইসলাম ব্যাপারীর ছেলে আল আমিনের সাথে কাশিয়ানী থানার ধানকোড়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান মুন্সীর মেয়ে বর্ণা খাতুনের দীর্ঘ ১৪ বছরের দাম্পত্য জীবন ছিল।

তাদের সংসারে একটি ছেলে ও দুইটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই আল আমিন চট্টগ্রামে কর্মরত থাকা অবস্থায় পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে একাধিকবার পালিয়ে যায়। এই পরকীয়া ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আল আমিন প্রায়শই বর্ণাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ঘাতক আল আমিন জানায়, সে একাধিকবার পরকীয়া করে চট্টগ্রামে চলে গিয়েছিল। গত ৪ জুলাই সে তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কাশিয়ানীর ধানকোড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসে। গত ৬ জুলাই সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে আল আমিন পূর্বপরিকল্পিতভাবে বর্ণাকে ডেকে শ্বশুরবাড়ির বসতঘরের পেছনে পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়।

জবানবন্দিতে ঘাতক বলে, ‘ও আমারে নিজের হাতে বিষ খাওয়াইছে... তারপর কইছে শোন, আমারে পানিতে চুবাইয়া মারো। আমি ওরে পুকুরের পানিতে চুবাইয়া ধইরা মারছি।’

হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পুকুরের পূর্ব পাড়ে পানির কিনারে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ফেলে রেখে লুঙ্গি, গামছা ও গেঞ্জি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে আল আমিন।

এ সময় তার ছেলে ইশরাফিল তাকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখে চিৎকার করলে, শ্বশুর মিজানুর রহমান মুন্সীসহ প্রতিবেশীরা পুকুরপাড়ে গিয়ে বর্ণার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

খবর পেয়ে কাশিয়ানী থানা পুলিশের এসআই মো: বোরহান উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।

এ ঘটনায় কাশিয়ানী থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হলে, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে ও এসআই মো: বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে ঘাতক আল আমিনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হলে সে স্বেচ্ছায় স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে।