ফেনী পলিটেকনিকে বহিরাগত কিশোর গ্যাংয়ের হামলা

জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মেকানিক্যাল বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র মনির হোসেন রনিকে পরীক্ষায় না দেখানোয় সিভিল বিভাগের ছাত্র মইনুল পাঁচ বিষয়ে ফেল দাবি করে ক্যাম্পাসের সামনে একটি বাসায় নিয়ে নির্যাতন করে। বিষয়টি ভুক্তভোগী রনি সিনিয়রদের অবগত করলে তারা সমাধানের চেষ্টা করেন।

শাহাদাত হোসাইন, ফেনী অফিস

Location :

Feni
ফেনী পলিটেকনিকে বহিরাগত কিশোর গ্যাংয়ের হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে সমবেত শিক্ষার্থীরা
ফেনী পলিটেকনিকে বহিরাগত কিশোর গ্যাংয়ের হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে সমবেত শিক্ষার্থীরা |নয়া দিগন্ত

ফেনী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পরীক্ষার হলে না দেখানোকে কেন্দ্র করে বহিরাগত কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

গতকাল সোমবারের এ ঘটনায় হাসান, তুষার ও নিরব নামে তিনজন শিক্ষার্থী আহত হন। এর মধ্যে হাসানকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মেকানিক্যাল বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র মনির হোসেন রনিকে পরীক্ষায় না দেখানোয় সিভিল বিভাগের ছাত্র মইনুল পাঁচ বিষয়ে ফেল দাবি করে ক্যাম্পাসের সামনে একটি বাসায় নিয়ে নির্যাতন করে। বিষয়টি ভুক্তভোগী রনি সিনিয়রদের অবগত করলে তারা সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু সোমবার মইনুল পুনরায় বহিরাগত কয়েকজনকে নিয়ে ক্যাম্পাসে আসে।

এ সময় বহিরাগত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। সিফাত নামে এক ছাত্রকে মোটরসাইকেলে তুলে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। উপস্থিত শিক্ষার্থীরা কাব্য নামে এক বহিরাগতকে আটক করে হোস্টেলে নিয়ে যায়। পরে কয়েকজন বড় ভাই পরিচয়ে ইউছুপ, মনির ও মইনুলসহ আরো কয়েকজন এসে কলেজ ফটকের সামনে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আঘাত করে। এতে সাজিদুর রহমান তুষার (ইলেকট্রিক্যাল বিভাগ, দ্বিতীয় পর্ব), হাসান মাহমুদ (সিভিল বিভাগ, পঞ্চম পর্ব) ও নিরব গুরুতর আহত হন।

আহতদের প্রথমে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে হাসানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পুলিশ এসে অনুরোধ করলে তারা অবরোধ তুলে নেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরেও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন।

এ ঘটনায় ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ইনস্টিটিউট অধ্যক্ষ মো: রেজাউল করিমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমরা তিন সদস্যের একটা তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিবে। সে আলোকে আমরা ব্যবস্থা নিবো।’