কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় চাচাতো ভাইদের হামলায় গুরুতর আহত যুবক মামুন মোল্লার (৪০) মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা নেয়ার পথে শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত মামুনের বাবা মোজাম্মেল মোল্লাও গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ থেকেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের শুকারঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মোজাম্মেল মোল্লার পরিবারের সাথে তার ভাই ইসমাইল মোল্লার পরিবারের বিরোধ চলছিল। কয়েক দিন আগে জাব্বার মোল্লার বাড়িতে গরু চুরির চেষ্টা হলে ঘটনাস্থলে একটি টর্চলাইট পাওয়া যায়। সেটি নিহত মামুনের দাবি করে তাকে চুরির অপবাদ দেয়া হয়।
নিহতের বাবা মোজাম্মেল মোল্লা অভিযোগ করেন, চুরির অপবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। মূলত পূর্বশত্রুতা ও মাঠের শ্রমিকের মজুরি চাইতে গেলে শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে মামুনের চাচাতো ভাইয়েরা লোহার রড, লাঠি ও শাবল নিয়ে মামুনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
জানা যায়, আহতদের প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে মামুনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের স্বজনদের দাবি— চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা ও পরে হাতাহাতির সৃষ্টি হয়। মামুন মোল্লা চুরির ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন বলেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক শত্রুতাকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় নেয়ার চেষ্টাও চলছে বলে তাদের অভিযোগ।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, নিহতের বাবা মোজাম্মেল হক দৌলতপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যেই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামি— উজ্জ্বল মোল্লা ও জাব্বার মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনার মূল কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



