বজ্রপাতে সুনামগঞ্জের চার উপজেলায় পাঁচজন, রংপুরে দু’জন, ময়মনসিংহে দু’জন, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জে একজন করে মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় মিঠাপুকুরে তিন শিশুসহ নয়জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ও দুপুরে পৃথক স্থানে এসব ঘটনা ঘটে।
বজ্রপাতে মৃতরা হলেন— সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার হবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩), দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮), তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮) ও জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর (গজারিয়া হাটি) গ্রামের নুরুজ্জামান।
আরো রয়েছেন— রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখিপুর গ্রামের জেলে মিলন মিয়া (৩৫) ও কৃষক তালেব উদ্দিন (৪৫), ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রহমত আলী (উজ্জল) ও গফরগাঁও উপজেলার মমতাজ আলী, নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার আলতু মিয়া (৬৫), হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সুনাম উদ্দিন (৫৫) এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার হলুদ মিয়া (৩৭)।
সুনামগঞ্জ :
শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের চার উপজেলার চারটি আলাদা হাওরে ধান কাটছিলেন ওই পাঁচ কৃষক। এ সময় ঝড়ো হাওয়ার সাথে আকস্মিক বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই ওই পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম, ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদ উল্ল্যা, দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রংপুর :
এদিকে রংপুরে বজ্রপাতে মাছ ধরার সময় জেলে মিলন মিয়া এবং পুকুরে পানা তোলার সময় কৃষক তালেব উদ্দিনের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখিপুর গ্রামে বৃষ্টি হয়। এ সময় এলাকার ছোট শালমারা বিলে মাছ ধরছিলেন জেলেরা। তা দেখতে সেখানে স্থানীয় শিশুসহ ১৫-২০ জন ভিড় করে। এর মধ্যে বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শিশুসহ কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়।
তাদের উদ্ধার করে মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিলন ও তালেবের মৃত্যু হয়। কৃষক তালেব ঘটনার সময় আরেকটি পুকুরে পানা তোলার কাজ করছিলেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দু’জন নিহত ও নয়জন আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ময়মনসিংহ :
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে রহমত আলী (উজ্জ্বল) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। দুপুরে উপজেলার ২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের বায়রাউড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে মাঠে কাজ করা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এছাড়া গফরগাঁও উপজেলায় আকাশে মেঘ দেখে মাঠ থেকে গরু আনতে যান মমতাজ আলী। এ সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।
হবিগঞ্জ :
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় বর্গা নেয়া বোরো জমিতে ছেলেকে নিয়ে ধান কাটছিলেন সুনাম উদ্দিন। কাটা ধান তার ছেলে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই সুনাম উদ্দিনের মৃত্যু হয়। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে খবর দেয়।
নেত্রকোনা :
দুপুরে নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় হাওরে গরুর ঘাস কাটতে যান আলতু মিয়া। এ সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।
কিশোরগঞ্জ :
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় দুপুরে বড় হাওরে ধান কাটছিলেন হলুদ মিয়া। হঠাৎ বজ্রপাত হলে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নেয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে সবাইকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, জলাশয় ও উঁচু স্থানে অবস্থান না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।



