ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের পশ্চিম দেবপুর গ্রামে ছেলে কর্তৃক বাবাকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে মনুর হাট বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ওবায়দুল হক মজুমদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে, সন্ধ্যায় অভিযোগকারী সাজেদা বেগম জানান, কিছুদিন আগে তার মাদকাসক্ত বখাটে সন্ত্রাসী ছেলে রুবেল ও শিবলু তাকে এবং তার স্বামী ওবায়দুল হক মজুমদারকে বেদম মারধর করে। এ সময় তারা ঘরের মালামাল ভাঙচুর করে এবং লুটপাট চালায়। এই ঘটনায় ওবায়দুল হক মজুমদার ছাগলনাইয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় জেল থেকে বেরিয়ে রুবেল মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য তার উপর নানা ধরনের হুমকি-ধামকি ও চাপ সৃষ্টি করে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে র্যাবের একটি দল ওই বাড়িতে গিয়ে বাড়ির লোকজনকে ঘুম থেকে তুলে অস্ত্র আছে বলে ঘরের সকল কক্ষে তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে কয়েকজন বাহিরে গিয়ে একটি অস্ত্র নিয়ে ঘরে ঢুকে জানান পাশের নির্মাণাধীন ঘরের বাথরুমের ছাদের উপর অস্ত্রটি পাওয়া গেছে বলে ওবায়দুল হক মজুমদারকে নিয়ে চলে যান।
সাজেদা বেগমের দাবি, তার ছেলে রুবেলই অস্ত্রটি সেখানে রেখে বাবাকে ফাঁসিয়েছে।
এ বিষয়ে ওবায়দুল হক মজুমদারও অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে আমার মাদকাসক্ত বখাটে ছেলে রুবেল অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে রুবেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি’
এ ঘটনায় র্যাবের কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো: ফখরুদ্দিন আজাদ মোল্লা ছাগলনাইয়া থানায় অস্ত্র মামলা দায়ের করেন এবং ওবায়দুল হক মজুমদারকে থানায় পাঠানো হয়।
তিনি জানান, সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে নির্মাণাধীন একটি ঘরের বাথরুমের ছাদের উপর থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করেছি।
বাবাকে অস্ত্র দিয়ে ছেলে রুবেল ফাঁসিয়ে দিয়েছে এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ধরনের কোনো কিছু আমার জানা নেই।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তানভীর মেহেদী বলেন, ‘নিয়মিত মামলা হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর বাইরে আমার কিছু বলার নেই।’
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছেলে কর্তৃক বাবাকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ ছাগলনাইয়ায় ‘টক অফ দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে।



