ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যার এক যুগ আজ। বিভৎস্য এই হত্যাকাণ্ডের মর্মন্তুদ কাহিনী এখনো ভুলেনি ফেনীবাসী। সেই সময় দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত হয় এক সময়কার সন্ত্রাস-সহিংসতার ভয়াল জনপদ ফেনী।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২০ মে দুপুরে ফেনী শহরের মাস্টারপাড়ার নিজ বাসা থেকে ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতাল ঘুরে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদে যাচ্ছিলেন একরামুল হক একরাম। তাকে বহনকারী গাড়িটি শহরের একাডেমি এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা গাড়ির গতিরোধ করে। এ সময় একরামকে প্রকাশ্য দিবালোকে গাড়ির মধ্যে কুপিয়ে ও বুকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে তাকে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ ঘটনার ভিডিও সেইসময় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
দেশে ভীতি জাগানিয়া রোমহর্ষক ওই ঘটনায় নিহত একরামের বড় ভাই জসিম উদ্দিন ফুলগাজীর বিএনপি নেতা ও উপজেলা নির্বাচনে একরামের প্রতিদ্বন্দ্বী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী মিনারের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৩৩ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।
তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ আগস্ট ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এর মধ্যে সোহেল নামের এক আসামি র্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান।
ঘটনার চার বছরের মাথায় ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে ৩৯ জনকে ফাঁসির আদেশ দেন ফেনীর তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হক। রায়ে দোষী সাব্যস্ত না হওয়ায় খালাস পান বিএনপির নেতা মাহতাব উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী মিনার, আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল ওরফে টুপি বেলাল, যুবলীগ নেতা জিয়াউল আলম মিস্টারসহ ১৬ জন। ফাঁসির দণ্ড পাওয়া আসামিরা সবাই আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা।
মৃত্যুদণ্ডের সাজা নিয়ে আত্মগোপনে আছেন ১৬ জন। তারা হলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদ হোসেন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়লা জেসমিন বড় মনির ছেলে ও ফেনী-২ আসনের পলাতক সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর মামাতো ভাই আবিদুল ইসলাম, আরমান হোসেন, চৌধুরী মো: নাফিজ উদ্দিন, জাহেদুল হাসেম, এমরান হোসেন, রাহাত মো: এরফান, জসিম উদ্দিন, একরাম হোসেন ওরফে আকরাম, শফিকুর রহমান, কফিল উদ্দিন মাহমুদ, মোসলে উদ্দিন, ইসমাইল হোসেন, মহিউদ্দিন আনিছ, মো: বাবলু ও টিটু। তাদের মধ্যে আটজন বিচার চলার সময় জামিনে মুক্ত হয়ে পালিয়ে যান। এছাড়া দণ্ডিত বাকিরা কারাগারে আছেন।
এদিকে ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) বিরুদ্ধে আসামিদের আপিলের শুনানি উচ্চ আদালতে ঝুলে আছে। ২০২৪ সালের মে মাসে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে একরাম হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি কার্যতালিকাভুক্ত হয়েছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সরকার পতনের পর তা পিছিয়ে যায়।



