বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘বিজ্ঞান গবেষণায় ব্যর্থতা বলে কিছু নেই। গবেষণার প্রতিটি ধাপই নতুন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার জন্ম দেয়, যা ভবিষ্যতের উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেয়।’
তিনি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় আরো উৎসাহিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
শুক্রবার (১৫ মে) সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের মোহাম্মদ আলী জিমনেসিয়ামে আয়োজিত ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘একটি দেশের অগ্রগতির মূল শক্তি হলো জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও গবেষণা।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক জ্ঞানচর্চার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ‘গবেষণা ও উদ্ভাবনই একটি দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে।’
তিনি বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সাহস, উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীল মানসিকতার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, ‘দেশের নানা সমস্যার সমাধান দেশীয় গবেষণা থেকেই আসতে হবে।’ ডায়রিয়া প্রতিরোধে খাবার স্যালাইনের উদ্ভাবন কিংবা পেঁয়াজ ও আলু সংরক্ষণে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এসব উদ্ভাবন দেশের বাস্তব চাহিদা থেকেই এসেছে এবং এগুলোই গবেষণার সফল প্রয়োগ।’
এসময় তিনি দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজ্ঞানচর্চা এবং বিজ্ঞান মেলার আয়োজন অব্যাহত রাখলে নতুন নতুন উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটবে বলে উল্লেখ করেন।
বিভাগীয় কমিশনার মো: মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য এম এ মালিক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. এস এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. মো: আলিমুল ইসলাম, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেট্রেপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলম, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি মো: আনোয়ারুল হক বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান। এসময় সরকারি-বেসরকারি দফতরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে মন্ত্রী সিলেট জেলা পর্যায়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।



