বৃষ্টিতে মাঠ হয়ে যায় পুকুর, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা

মাঠটিতে শুধু এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই নয়; আশপাশের এলাকার শিশু-কিশোরদলও খেলাধুলা করে। মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হয় না। পানি নিষ্কাশনের নালা বন্ধ করে বাড়িঘর নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী ঝিলন, গাজীপুর

Location :

Gazipur
বৃষ্টির পানিতে বিদ্যালয়ের মাঠ পরিণত হয়েছে পুকুরে
বৃষ্টির পানিতে বিদ্যালয়ের মাঠ পরিণত হয়েছে পুকুরে |নয়া দিগন্ত

বৃষ্টি হলেই মাওনা জে এম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ পানি জমে স্বল্প গভীরতার এক পুকুরে পরিণত হয়। এতে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ, খেলাধুলা ও সহশিক্ষার সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে বৃষ্টির পুরো মৌসুমজুড়ে।

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়টির খেলার মাঠের এই দুর্দশা দেখার যেন কেউ নেই। বিভিন্ন দফতরে আবেদন জানিয়েও জলাবদ্ধতা নিরসনের কোনো সমাধান মেলেনি। এই সমস্যা সমাধানে মাঠটিতে মাটি ভরাট করে উঁচু করাসহ পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের দক্ষিণ পাশে শ্রেণিকক্ষের সামনে বৃষ্টির পানি জমে থইথই করছে। দেখে মনে হবে পুকুর কাটা হয়েছে। স্কুলের বারান্দায় শিশু শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও ছোটাছুটি করছে।

গত তিন দিনের বৃষ্টির পানি মাঠে জমে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকজন শিশুশিক্ষার্থী পানি মাড়িয়ে খেলা করছে। এ সময় এক শিক্ষার্থী দৌড়াতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যায়।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া ও শ্রাবণ বলে, স্কুলের মাঠে পানি জমে থাকার কারণে চলাফেরা ও খেলাধুলা করতে পারি না। স্কুলের বারান্দায় খেলতে গেলেও অনেকে এক সাথে দৌড়াতে পারি না। বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারি না। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিদ বলে, বিদ্যালয়ের মাঠে বৃষ্টির পানি জমে থাকে, পানি বের হতে পারে না। আসা-যাওয়ার সময় কেউ না কেউ পা পিছলে পড়ে যায়। তখন পোশাক, বইখাতা সবকিছু ভিজে যায়। আর মাঠে পানির জন্য খেলাধুলা বন্ধ থাকে পুরো বর্ষাকালজুড়ে। আমরা মাঠের জলাবদ্ধতার দ্রুত সমাধান চাই। আমরা মাঠে খেলতে চাই, দৌড়ঝাঁপ করতে চাই।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, মাঠটিতে শুধু এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই নয়; আশপাশের এলাকার শিশু-কিশোরদলও খেলাধুলা করে। মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হয় না। পানি নিষ্কাশনের নালা বন্ধ করে বাড়িঘর নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তবভিত্তিক কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় মাঠে জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে যায়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় এক হাজার ১৮ জন। প্রতি বছরই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সমাপনী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে থাকে, পিছিয়ে নেই খেলাধুলায়ও। মাঠটির দক্ষিণ পাশের জমি নিচু হওয়ায় এবং পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় বৃষ্টি হলে মাঠে পানি জমে যায়। তিন বছর ধরে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবছর পুরো বর্ষা মৌসুম মাঠে পানি থাকে। কাদাপানির জন্য শিক্ষার্থীরা অ্যাসেম্বলি ও শরীরচর্চা করতে পারে না। এতে স্কুলের সহশিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়েশা আক্তার বলেন, ‘আমি তিন বছর ধরে এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। প্রতি বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সমস্যা সমাধানের জন্য একাধিকবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।’

শ্রীপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মনির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের আশপাশে বসতবাড়ি নির্মাণ হওয়ায় এবং স্কুলের চারপাশের চলাচলের রাস্তা উঁচু হওয়ার কারণে মাঠ নিচু হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠে পনি জমে থাকে। ইতোমধ্যে মাঠ ভরাটের জন্য শ্রীপুর পৌরসভা থেকে টেন্ডার হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটসহ জলাবদ্ধতা দূরীকরণে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নহিদ ভূঁইয়া বলেন, ‘মাওনা জে এম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’