কুড়িগ্রামে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী-শাশুড়ি পলাতক

বুধবার সকালে রান্নার সময় চুলায় বেশি করে জ্বালানি ব্যবহার করাকে কেন্দ্র করে গৃহবধূ মাহমুদা আক্তারের সাথে তার শাশুড়ির বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দিনভর পারিবারিক কলহ চলতে থাকে।

রেজাউল করিম রেজা, কুড়িগ্রাম

Location :

Kurigram
ময়নাতদন্তের পর লাশ বাড়িতে নেয়া হচ্ছে
ময়নাতদন্তের পর লাশ বাড়িতে নেয়া হচ্ছে |নয়া দিগন্ত

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় মাহমুদা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী, শাশুড়িসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক রয়েছেন বলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বুধবার (১ জুলাই) উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ মাহমুদা আক্তার সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নে টেংরার ভিটা গ্রামের ময়নাল হোসেনের স্ত্রী। তার দু’টি শিশুসন্তান রয়েছে। ছোট সন্তানের বয়স ছয় মাস।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকালে রান্নার সময় চুলায় বেশি করে জ্বালানি ব্যবহার করাকে কেন্দ্র করে গৃহবধূ মাহমুদা আক্তারের সাথে তার শাশুড়ির বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দিনভর পারিবারিক কলহ চলতে থাকে। মাহমুদার বাবার বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় তার মা আতরভান বেগম দুই শিশুকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।

সন্ধ্যায় ছোট শিশুটি কান্নাকাটি করলে তাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে এসে পরিবারের সদস্যরা মাহমুদাকে ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে লাশ নিচে নামিয়ে পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে থানা থেকে লাশ এনে বিকেলে বাবার বাড়িতে দাফন করা হয়।

নিহত গৃহবধূর চাচাত ভাই আতাউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের সময় যৌতুকের কিছু টাকা বাকি ছিল। সেই টাকা নিয়ে প্রায়ই মাহমুদাকে নির্যাতন করা হতো। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে স্বামী ময়নাল হোসেন, তার মা ও বড় ভাইসহ বাড়ির লোকজন পলাতক থাকায় তাদের কারো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্বশুরবাড়ির কাউকে পাওয়া যায়নি। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন জানান, বুধবার রাতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।