দানের ৩টি ডেগ সিলগালা, শাহজালাল রহ:-এর মাজারে বসলো প্রশাসনের দানবাক্স

নিরাপত্তায় আনসার

সম্প্রতি প্রশাসন মাজারগুলোর আয়ের স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেয়। যদিও মাজার কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের এই উদ্যোগকে মাজারের রেওয়াজবিরোধী বলে উল্লেখ করেছেন।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
এসব ডেগে দান করতেন মুসল্লি ও ভক্তরা
এসব ডেগে দান করতেন মুসল্লি ও ভক্তরা |ছবি : নয়া দিগন্ত

সিলেটের হযরত শাহজালাল রহ:-এর মাজারের দানের ৩টি ডেগ সিলগালা করেছে প্রশাসন। একইসাথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারে দানবাক্স বসানো হয়েছে। মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া এসব দান বাক্সের নিরাপত্তায় আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৪টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লার নেতৃত্বে সিলগালা করা হয় এবং দানবাক্সগুলো স্থাপন করা হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি প্রধান দানবাক্সসহ ছোট-ছোট আরো কয়েকটি দানবাক্স মাজারের বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লা বলেন, ‘মাজারের দান সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে আরো সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এখন থেকে ভক্তদের দেয়া সকল দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা এই বাক্সগুলোতে জমা হবে।’

এর আগে, গত শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে হযরত শাহজালাল রহ:-এর মাজার পরিদর্শনে যান সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: সারওয়ার আলম।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল রহ: ও হযরত শাহপরান রহ: মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দানবাক্সে তালা দেয়া হয়।

এ সময় মো: সারওয়ার আলম বলেন, সিলেটের দুটি বড় ঐতিহাসিক মাজার। আমরা এই দুই মাজারকে কেন্দ্র করে কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো এই দুটি প্রতিষ্ঠানকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

তিনি আরো বলেন, এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য মাজারের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। বর্তমানে আমরা এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাজারের ব্যবস্থাপনা, কার্যক্রম এবং সার্বিক পরিবেশকে একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের মধ্যে আনার চেষ্টা করছি। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিষয় এবং প্রতিষ্ঠান সম্পর্কেও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সিলেটের এই দুই ঐতিহাসিক মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা ভক্তরা প্রতিদিন এখানে অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশুসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী দান করেন। কিন্তু সেই বিপুল দানের অর্থ কোথায় যায়, কিভাবে ব্যয় হয় তার হিসাব রাখার দাবি উঠেছে বিভিন্ন সময়ে।

সম্প্রতি প্রশাসন মাজারগুলোর আয়ের স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেয়। যদিও মাজার কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের এই উদ্যোগকে মাজারের রেওয়াজবিরোধী বলে উল্লেখ করেছেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর বিষয়টি নতুনভাবে গুরুত্ব পায়। সিলেট সিটি করপোরেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সভায় মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার অস্বচ্ছতার চিত্র সামনে আসে। পরে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে ওয়াকফ এস্টেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং মাজার ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে আলাদা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে হিসাব চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এক সভায় সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: সারওয়ার আলম বলেন, আগামী এক মাস জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াকফ এস্টেট ও মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করবে।

এ সময়ের মধ্যে দানের উৎস, ব্যয়ের খাত ও সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার চিত্র পর্যালোচনা করা হবে। ভবিষ্যতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে হিসাব সংরক্ষণ ও নিয়মিত অডিটের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

এতে জেলা প্রশাসক বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্ত-অনুরাগীরা বেকায়দায় পড়েন। তাই মাজার-মাদরাসা-মসজিদ- এই তিন স্থাপনার ব্যবস্থাপনা ও সংস্কারের উদ্যোগ নেবে সরকার।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে একটি মহাপরিকল্পনা করছে সরকার। এর আওতায় নান্দনিক মসজিদ তৈরি, নারীদের নামাজের স্থান, লাইব্রেরি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তবে শিগগিরই নিরাপত্তা জোরদার, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং টয়লেটের সমস্যা সমাধান করা হবে।