চৌগাছায় চাহিদার চেয়ে পশু বেশি, অনলাইনেও চলছে বেচাকেনা

ঢাকা, চট্রগ্রাম, নোয়াখালী, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলা থেকে অনেকে খামারে এসে দেখে গরু নিচ্ছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ যোগাযোগ করছেন। এতে হাটে নেয়ার আগেই অনেকের গরু বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর)

Location :

Jashore
প্রতীকী ছবি

ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র নয় দিন। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে চৌগাছার পশুর খামারগুলো। উপজেলার ছোট-বড় খামারিরা কোরবানির পশু প্রস্তুতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ উপজেলায় চাহিদার তুলনায় গবাদি পশু রয়েছে বেশি। তবে গো-খাদ্যের বাড়তি দামের কারণে লাভ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে তাদের মনে।

উপজেলা উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, উপজেলায় প্রায় ২৫২৬টি খামারির কাছে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ২৫৭টি পশু। এর মধ্যে ছাগল ৯২৭০টি ও ভেড়া ২০৫টি। অথচ উপজেলার চাহিদা নয় হাজারের মতো। ফলে চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত প্রায় আট হাজার ২৫৭টি পশু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করা হবে।

সোমবার (১৮ মে) ছিল চৌগাছার পশুর হাট। হাট ঘুরে দেখা গেছে- প্রচুর গরু হাটে উঠেছে, কিন্তু ক্রেতা ছিল কম। ফলে বিক্রিও কম। অনেকে হাটে বিক্রির জন্য গরু আনলেও দাম মনঃপুত না হওয়ায় বাড়িতে ফেরত নিয়ে গেছেন।

অন্যদিকে উপজেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে সামনে রেখে কয়েক মাস ধরেই গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। কেউ নিজ হাতে খামারের প্রতিটি গরুর নিবিড় যত্ন নিচ্ছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের সাথে দিন-রাত পরিশ্রম করে গড়ে তুলেছেন স্বপ্নের খামার। খড়, ঘাস, গমের ভুসি, ভুট্টাসহ দেশীয় ও প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে সুস্থ ও আকর্ষণীয় গরু প্রস্তুত করা হচ্ছে।

উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের পলুয়া গ্রামের আলেয়া অ্যাগ্রোফার্মের মালিক কামাল হোসেন বলেন, ‘অত্যন্ত যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে ৬৬টি গরু লালন-পালন করেছি। কখনো কোনো ভেজাল বা ক্ষতিকর খাবার খাওয়াইনি। সম্পূর্ণ দেশীয় ও পুষ্টিকর খাবার দিয়েই গরুগুলো বড় করেছি। ইতোমধ্যে অনলাইন ফেইসবুকের মাধ্যমে ছয়টি গরু বিক্রি করা হয়েছে। বাকি ৬০টি গরু এ কোরবানিতে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করবো। আল্লাহ ভরসা ক্রেতাদের সাড়া কেমন পাওয়া যায় সেটাই দেখার অপেক্ষা।’

আন্দারকোটা গ্রামের আশাদুল ইসলাম বলেন, ‘বেশি দামে গো-খাদ্য কিনে গরু পালন করে খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। যদি বাজারে দাম কমে যায় তাহলে লাভ তো দূরের কথা, টিকেই থাকা কঠিন হয়ে যাবে।’

এবারের হাটে গরু তোলার পাশাপাশি অনেক খামারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনে গরুর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছেন। ছবি ও ভিডিও দেয়ার পাশাপাশি গরুর ওজন লিখে দিচ্ছেন অনেক খামারি। দিচ্ছেন নিজের মোবইল নম্বর। এভাবে ভালোই সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান অনেকে।

ঢাকা, চট্রগ্রাম, নোয়াখালী, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলা থেকে অনেকে খামারে এসে দেখে গরু নিচ্ছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ যোগাযোগ করছেন। এতে হাটে নেয়ার আগেই অনেকের গরু বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

চৌগাছা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আনোয়ারুল করিম বলেন, ‘ছোট খামারিরাও এখন বড় আকৃতির গরু পালন করে লাভবান হচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে খামারিদের নিয়মিত খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। তাদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলায় একটি বড় পশুর হাটও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাতে দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যাপারীরা এ হাট থেকে নিরাপদে গরু কিনতে পারেন।’