নাটোরে ৭ বছরের শিশু মামলার আসামি, আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন

গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা এলাকায় গত ৯ এপ্রিল পূর্ব বিরোধের জেরে হামলা ও সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। পরদিন ১০ এপ্রিল গুরুদাসপুর থানায় এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

নাটোর প্রতিনিধি

Location :

Natore
মামলায় সাত বছরের শিশুর নাম, আদালতে হাজির হয়ে জামিন
মামলায় সাত বছরের শিশুর নাম, আদালতে হাজির হয়ে জামিন |সংগৃহীত

নাটোরের গুরুদাসপুরে সাত বছরের এক শিশুকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে আদালতে সশরীরে হাজিরা দিয়ে জামিন পায় শিশুটি। এ ঘটনায় আদালত পাড়া ও এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার নথিতে দেখা যায়, দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিশুর নাম অভিযুক্তদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে আদালতে জামিন আবেদন করা হলে নারী ও শিশু আদালতের বিচারক মো: রফিকুল ইসলাম শিশুটির জামিন মঞ্জুর করেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী মো: শামীম হোসেন মামলার বরাত দিয়ে জানান, গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা এলাকায় গত ৯ এপ্রিল পূর্ব বিরোধের জেরে হামলা ও সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। পরদিন ১০ এপ্রিল গুরুদাসপুর থানায় এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় একাধিক ব্যক্তির পাশাপাশি ওই এলাকার শাজাহান আলীর ছেলে মো: হুসেন নামে সাত বছর বয়সী এক শিশুর নামও আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটির জন্ম ২০১৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। সে হিসাবে বর্তমানে তার বয়স সাত বছর। মামলায় সাত বছর বয়সী ওই শিশুর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। সবার একই প্রশ্ন, এত ছোট বয়সের একটি বাচ্চাকে কিভাবে হামলা বা সংঘর্ষের মামলায় আসামি করা হলো।

আইনজীবীরা বলেন, ফৌজদারি মামলায় অভিযোগকারী পক্ষ অনেক সময় বিরোধের জেরে পরিবারের সকল সদস্যদের একসাথে আসামি করে থাকে। তবে কোনো শিশুর নাম যুক্ত হলে তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে যাচাই করা প্রয়োজন।

নাটোর বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শরীফুল হক মুক্তা বলেন, এত ছোট বাচ্চা কিভাবে এই মামলার আসামি হতে পারে? সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না। কর্তৃপক্ষকে আরো সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।