মানিকগঞ্জের শিবালয়ে যমুনা নদী বেষ্টিত দুর্গম আলোকদিয়া এলাকায় বালু মহালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এক মাস আগে একই এলাকায় গুলি করে বালু ঘাটের এক ম্যানেজারকে হত্যার পর আবারো গুলির ঘটনা ঘটলো।
রোববার (১০ মে) ভোরে আলোকদিয়া খেয়াঘাটের সাত নম্বর টাওয়ার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর ৬টার দিকে তিনটি ইঞ্জিনচালিত কাটারে করে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল ঘটনাস্থলে আসে।
তারা সেখানে অবস্থানরত ড্রেজিং শ্রমিক ও ইজারাদারের লোকজনকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে। পরে অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দিয়ে সকাল ৭টার মধ্যে সব গুটিয়ে এলাকা ছাড়তে বলে। একই সাথে তারা ঘোষণা দেয়, ফরিদপুর থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত পদ্মা ও যমুনা নদীতে শুধু ছাত্তার কমিশনারের নামেই ড্রেজিং চলবে।
এ সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে দুর্বৃত্তরা বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে ওই এলাকা ত্যাগ করে।
খবর পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর সকাল ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশ গুলি ছোড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ঘটনার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি বলে জানায়।
স্থানীয়রা জানায়, যমুনা নদীতে তেওতা বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর আগেও একই এলাকায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গত ৩ এপ্রিল আলোকদিয়া গ্রামের কাছে যমুনার বালুমহালে বালু উত্তোলনের সময় প্রতিপক্ষের হামলায় মিরাজ হোসেন (৪০) নামে বালুর ঘাপের এক ম্যানেজার নিহত হন।
ওই ঘটনায় ইজারাদার কাওছার আলম ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো পাঁচ থেকে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
ওই মামলায় পুলিশ পটুয়াখালীর বাউফল থানা এলাকা থেকে রাসেল (২৪) নামে একজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার রাসেল আলোকদিয়া চরের শোকুলিয়া গ্রামের নাজেরের ছেলে।
বালু মহালের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম চাঁন বলেন, চলতি বছর এক কোটি ২০ লাখ টাকায় তেওতা বালু মহালের ইজারা নিয়েছেন মেসার্স ইকরাম কনস্ট্রাকশন। রোববার সকালে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ইঞ্জিন চালিত নৌকা যোগে আলোকদিয়া চরে এসে দুই থেকে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে কোনো প্রানহানি না ঘটলেও একটি গুলি তাদের বাল্কহেডে লাগে।
তিনি বলেন, ওই সন্ত্রাসী গ্রুপ হুমকি দিয়ে বলে, নদীর এ অঞ্চলে বালু উত্তোলন করলে তারা হামলা করবে।
তিনি আরো বলেন, গুলি বর্ষণের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছিল। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দেয়া না হলেও পুলিশকে ঘটনার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।
শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনির হোসেন বলেন, ‘যমুনা নদীর আলোকদিয়া চরে গুলি বর্ষণের ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



